বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরের জন্য সরকার একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার থেকে ফ্রিল্যান্সাররা www.freelancers.gov.bd-তে নিবন্ধন করতে পারবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ফ্রিল্যান্সারদের সরকারি স্বীকৃতি প্রদান এবং তাদের কাজকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে যুক্ত করা।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১২ জানুয়ারি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্ল্যাটফর্মটি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একক ডিজিটাল পরিচয়পত্রের কাজ করবে।
এ পর্যন্ত ফ্রিল্যান্সারদের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র না থাকায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সেবা গ্রহণে বাধা দেখা যেত। নতুন সিস্টেমের মাধ্যমে সরকার প্রথমবারের মতো ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বৈধ ডিজিটাল আইডি প্রদান করবে, যা তাদের পেশাগত মর্যাদা বাড়াবে।
ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকিং সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার পাবে। আইডি ব্যবহার করে তারা দ্রুত অ্যাকাউন্ট খুলতে, লেনদেন সম্পন্ন করতে এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড বজায় রাখতে পারবে। এই সুবিধা ফ্রিল্যান্সারদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে।
বিশেষত ঋণ গ্রহণ, ক্রেডিট কার্ড ইস্যু এবং রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে সরকারী প্রণোদনা সহজলভ্য হবে। ডিজিটাল আইডি থাকলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্রিল্যান্সারদের আয় ও কাজের ইতিহাস দ্রুত যাচাই করতে পারবে, ফলে ঋণ অনুমোদনের সময় কমে যাবে।
ক্রেডিট কার্ড সুবিধা ও বিদেশি মুদ্রা রেমিট্যান্সের প্রক্রিয়াও দ্রুততর হবে। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নির্দিষ্ট সুদ হারের সুবিধা এবং রেমিট্যান্সে কর ছাড়ের মতো প্রণোদনা পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো ফ্রিল্যান্সারদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা বাড়াবে।
প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সারদের উচ্চতর প্রযুক্তি প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলোতে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা প্রথমে অংশ নিতে পারবে। ফলে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে।
ডিজিটাল পরিচয়পত্র আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের কাছে ফ্রিল্যান্সারদের পেশাগত স্বীকৃতি বাড়াবে। ক্লায়েন্টরা এখন ফ্রিল্যান্সারদের কাজের প্রমাণ এবং আইডি যাচাই করে নিরাপদে চুক্তি করতে পারবে। এটি বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
প্ল্যাটফর্মটি একটি জাতীয় ডেটাবেসের কাজও করবে। এতে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা, দক্ষতা ও কাজের ধরণ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য সংরক্ষিত হবে। সরকার এই তথ্য ব্যবহার করে নীতি নির্ধারণ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবে।
ডেটা-ভিত্তিক নীতি গঠন ভবিষ্যতে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আরও সমর্থনমূলক পরিবেশ তৈরি করবে। উদাহরণস্বরূপ, কর সুবিধা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং পেনশন স্কিমের মতো ব্যবস্থা সহজে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। এই তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি নীতি নির্ধারকদের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, নতুন প্ল্যাটফর্ম ব্যাংক ও ফ্রিল্যান্সারদের সংযোগকে দৃঢ় করবে এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়নে এই উদ্যোগের অবদান উল্লেখযোগ্য।
সার্বিকভাবে, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সরকারী ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও নিবন্ধন পোর্টাল দেশের ডিজিটাল কর্মশক্তিকে সুশৃঙ্খল করে তুলবে। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের নতুন দ্বার খুলে দেবে। ভবিষ্যতে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হতে পারে।



