সরকারের সিদ্ধান্তে গ্রাহকের কাছে থাকা সিম‑কার্ডের সংখ্যা দশে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, ফলে নভেম্বর মাস থেকে ৮.৮ মিলিয়নেরও বেশি সিম নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সাইবার অপরাধ ও আইন‑শৃঙ্খলা সমস্যার মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছিল এবং পোস্ট ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাস্তবায়িত হয়েছে।
বিটিআরসি সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক জানান, গ্রাহকপ্রতি সর্বোচ্চ দশটি সিম রাখা হবে বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিম সংখ্যা কমার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১.৮ মিলিয়ন এবং মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৬.২৬ লক্ষেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৪‑এ চারটি প্রধান অপারেটরের মোট ব্যবহারকারী ছিল ১৯.৪২ কোটি, জুলাই ২০২৫‑এ তা কমে ১৮.৮৭ কোটি এবং নভেম্বর ২০২৫‑এ আরও হ্রাস পেয়ে ১৮.৭০ কোটি হয়েছে।
মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা বর্তমানে ১১.৫২ কোটি, যা জুলাই ২০২৫‑এর ১২.১৫ কোটি থেকে এবং পূর্বের জুলাইতে ১২.৭৫ কোটি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, কঠোর নিয়ম, সিম সীমাবদ্ধতা, মোবাইল ডেটা মূল্যের বৃদ্ধি এবং ব্রডব্যান্ডের সহজলভ্যতা এই পতনের মূল কারণ।
অন্যদিকে, ব্রডব্যান্ড (আইএসপি ও পিএসটিএন) ব্যবহারকারী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১.৪৬ কোটি, যা জুলাই ২০২৪‑এর ১.৩৫ কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রযুক্তি বিশারদরা বিশ্লেষণ করেন, মোবাইল হ্যান্ডসেট ও ডেটা পরিষেবার ব্যবহার কমে যাওয়া মূলত নিয়ন্ত্রক চাপ ও খরচ বৃদ্ধির ফলে ঘটছে, আর ব্রডব্যান্ডের সাশ্রয়ী প্যাকেজগুলো ব্যবহারকারীদের নতুন বিকল্প প্রদান করছে।
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু হওয়ার পর সিম বন্ধের প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়েছে, যা মোট সিম সংখ্যা হ্রাসে সহায়ক হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, মোবাইল ও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার কমলেও ব্রডব্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে, যা দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর দিক পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।
ভবিষ্যতে সিম সীমাবদ্ধতা ও ডেটা মূল্যের নীতি কীভাবে সমন্বিত হবে, তা নির্ধারণ করবে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবার পারস্পরিক বিকাশের গতিপথ।



