জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা ১২ জানুয়ারি লালমনিরহাট‑১ (পাটগ্রাম‑হাতিবান্ধা) আসনে প্রার্থীর নাম নিবন্ধন করেন। নির্বাচনী হলফনামায় দেখা যায়, তার মোট বার্ষিক আয়ের বেশিরভাগই ‘অনির্দিষ্ট’ বা ‘অন্যান্য উৎস’ থেকে আসছে, যা ব্যবসায়িক আয়ের পাঁচ গুণেরও বেশি। রাঙ্গা রংপুর‑১ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও, এইবার প্রথমবারের মতো লালমনিরহাট‑১ থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাঙ্গার হলফনামা অনুযায়ী, ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ২৪,৪৭,৫৫২ টাকা। একই সময়ে ‘অন্যান্য উৎস’ থেকে তার আয় ১ কোটি ৩৫ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা, যা ব্যবসায়িক আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। কৃষি খাত থেকে তিনি ৩,৭১,৫৫০ টাকা, বাসা-ভাড়া থেকে ৩৬,৫৬,২২৪ টাকা এবং শেয়ার‑আমানত থেকে ১,৪১,৫৫৩ টাকা উপার্জন করেন।
রাঙ্গার পরিবারের নির্ভরশীলদের আয়েও ‘অন্যান্য উৎস’ প্রধান ভূমিকা রাখে। তার পুত্রের কৃষি থেকে বার্ষিক আয় ১,০১,৬০১ টাকা, ব্যবসা থেকে ১৩,৫০,২০০ টাকা। পুত্রের স্ত্রী কৃষি থেকে ৯১,৪০০ টাকা এবং ব্যবসা থেকে ৪,৪৯,৬৬৬ টাকা উপার্জন করে। কন্যা কৃষি থেকে ২,৭৯,৩০০ টাকা এবং ব্যবসা থেকে ৯৬,৩০০ টাকা আয় করে। পরিবারের অন্যান্য নির্ভরশীলদের ‘অন্যান্য উৎস’ থেকে মোট ১০,২৫,০০০ টাকা আয় হয়েছে, তবে তার উৎস হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।
রাজনৈতিক দিক থেকে রাঙ্গা ২০০১ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৮ সালে একই আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য হন। ২০১৯ সালে তিনি বিরোধী দলের চিফ হুইপ হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২-এ তাকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বীরা রাঙ্গার ‘অন্যান্য উৎস’ থেকে আয়ের পরিমাণকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন, কারণ হলফনামায় এই আয়ের উৎস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তারা দাবি করছেন, ভোটারদের কাছে স্বচ্ছতা না থাকলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রাঙ্গা পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, তবে তিনি পূর্বে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সব আয় স্বচ্ছভাবে উল্লেখ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাঙ্গার এই নতুন প্রার্থী হিসেবে লালমনিরহাট‑১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে। রঙপুরের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিনিধিত্বের পর লালমনিরহাটে তার প্রবেশ স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে, বিশেষ করে তার আর্থিক স্বচ্ছতা ও পারিবারিক আয় কাঠামো নিয়ে আলোচনার ফলে। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরে রাঙ্গার আর্থিক বিবরণীর ওপর বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে প্রভাবিত করতে পারে।
লালমনিরহাট‑১ আসনে রাঙ্গার প্রার্থীতা দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দৃশ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। যদি তিনি সফল হন, তবে জাতীয় পার্টির উপস্থিতি ঐ অঞ্চলে শক্তিশালী হবে এবং অন্যান্য প্রধান দলগুলোর কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। অন্যদিকে, রাঙ্গার ‘অন্যান্য উৎস’ থেকে আয়ের বিশাল পার্থক্য ভোটারদের মধ্যে আর্থিক স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা বাড়াতে পারে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রচারাভিযানের বিষয়বস্তুতে প্রভাব ফেলবে।
সামগ্রিকভাবে, মশিউর রহমান রাঙ্গার লালমনিরহাট‑১ আসনে মনোনয়ন এবং তার আর্থিক বিবরণী দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। ভোটারদের কাছে তার আয়ের উৎসের স্বচ্ছতা এবং পারিবারিক আয় কাঠামোর বিশদ ব্যাখ্যা কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, তা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



