বেভারলি হিলটনের গলফ কোর্সে অনুষ্ঠিত ২০২৬ গোল্ডেন গ্লোবস পুরস্কার অনুষ্ঠানটি টেলিভিশন ক্যামেরা দ্বারা রেকর্ড করা বেশ কিছু মুহূর্তকে বাদ দিয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় নিকি গ্লেজার মঞ্চে হোস্টিং করেন, আর ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ চলচ্চিত্রটি সর্বাধিক পুরস্কার জিতে নেয়। এই অনুষ্ঠানের পিছনের দৃশ্যগুলো হলিউড রিপোর্টার (THR) নিজস্ব ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করে পাঠকদের কাছে তুলে ধরেছে।
স্নুপ ডগ প্রথমবারের মতো সর্বোত্তম পডকাস্ট পুরস্কার উপস্থাপন করেন। পুরস্কার প্রদানকালে তিনি কিছু রঙিন মন্তব্য করেন, যার মধ্যে একটি বাক্য টেলিভিশন সম্প্রচারে বাদ পড়ে। তবে THR‑এর ক্যামেরা সেই মুহূর্তটি রেকর্ড করে, যেখানে তিনি বলেন, “আমি এখন খুবই উচ্ছ্বসিত, আপনারা আমাকে এখানে দীর্ঘ সময় ধরে রেখেছেন।”
সেই রাতে ‘হ্যামনেট’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক স্টিভেন স্পিলবার্গ চিত্রশালার পুরস্কার গ্রহণের পর টিমোথি শ্যালামের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলাপ করেন। শ্যালাম ‘সেরা অভিনেতা – মিউজিক্যাল/কমেডি’ বিভাগে গ্লোবস জিতেছেন, এবং স্পিলবার্গ তার সাফল্যের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়ে হাততালি দেন।
ব্যাকস্টেজে একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। ক্যাটারিং কর্মী একটি কফি হোল্ডার ফেলে দেন, যার নিচে থাকা সের্নো জ্বলে ওঠে। ফলে রেড কার্পেটের নিচের কার্পেটের এক অংশে অল্প সময়ের জন্য অগ্নি লেগে গ্যাসের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। THR‑এর টুইটারে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মীরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মার্ক রনসন, যিনি ‘সেরা মূল গানের’ জন্য মনোনীত, অনুষ্ঠান চলাকালে পোলারয়েড ক্যামেরা নিয়ে নিজস্ব ছবি তোলেন। তার এই স্বতঃস্ফূর্ত ছবি তোলার দৃশ্যটি ক্যামেরার বাইরে দর্শকদের কাছেও নজরে আসে।
অভিনেতা গ্লেন পাওয়েল তার মা‑বাবার সঙ্গে গ্লোবসে উপস্থিত হন। রেড‑কার্পেটের পূর্বে তিনি এক মজার মন্তব্য করেন যে গ্লোবসে ‘প্লাস টু’ পাওয়া কঠিন, তবে এবার তার মা‑বাবা সঙ্গে থাকায় তা সম্ভব হয়েছে। এই হাস্যকর মন্তব্যটি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ চলচ্চিত্রটি সর্বাধিক পুরস্কার জিতেছে, যার মধ্যে ‘সেরা ড্রামা ফিল্ম’ এবং ‘সেরা পরিচালক’ অন্তর্ভুক্ত। এই বিজয়টি শিল্পের বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধিদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান হোস্ট নিকি গ্লেজার তার রসিকতা ও তীক্ষ্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখেন। তিনি বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার প্রদানকালে মঞ্চে উপস্থিত শিল্পীদের সঙ্গে হালকা মেজাজে আলাপ করেন, যা টেলিভিশন দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় মুহূর্ত তৈরি করে।
এই গ্লোবসের পর্দার পিছনের ঘটনাগুলো শিল্পের অপ্রত্যাশিত দিকগুলোকে উন্মোচিত করে। ক্যামেরা না ধরলেও, THR‑এর রিপোর্টাররা এই মুহূর্তগুলোকে নথিভুক্ত করে পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
গ্লোবসের পর্দা বন্ধ হওয়ার পরেও, সামাজিক মাধ্যমে এই অদেখা দৃশ্যগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দর্শকরা টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে ভিডিও ও ছবি শেয়ার করে এই ঘটনাগুলোর প্রতি তাদের আগ্রহ প্রকাশ করে।
সর্বশেষে, গ্লোবসের এই অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র পুরস্কার প্রদানেই সীমাবদ্ধ না থেকে, শিল্পের পেছনের কাজকর্ম ও অপ্রত্যাশিত ঘটনার মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ চিত্র উপস্থাপন করেছে। এইসব তথ্য ভবিষ্যতে গ্লোবসের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে সংরক্ষিত হবে।



