থাকুরগাঁও জেলা শহরের নিজ বাসভবনে সোমবার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ক্ষেত্রে ব্যর্থ বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা উচিত, তবে সরকার এখনো তা অর্জন করতে পারেনি।
সভায় উপস্থিত দলের উচ্চপদস্থ নেতারা ও কর্মীরা মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও বাজেয়াপ্তি না হওয়া দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই বিষয়টি তিনি সরকারের অক্ষমতা হিসেবে তুলে ধরেন।
মির্জা ফখরুলের মতে, অবৈধ অস্ত্রের ব্যাপকতা এবং সেগুলোর নিয়ন্ত্রণে সরকারের অক্ষমতা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে এই ধরনের নিরাপত্তা ঘাটতি জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, “এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সেরকম উন্নত হয়নি” বলে মন্তব্য করেন। তবে তিনি আশাবাদী স্বরে যোগ করেন, শীঘ্রই পরিস্থিতি উন্নত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই আশার পেছনে তিনি সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রত্যাশা উল্লেখ করেন।
নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনায় মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছে এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি” এবং এভাবে দলটি ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
বিএনপি তার অর্জনকে দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত করে দাবি তুলে ধরেন। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, দেশের সব ভালো পরিবর্তন—যেমন সংস্কার, একদলীয় থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে রূপান্তর, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রতা—সবই বিএনপির অবদান।
তিনি বিশেষভাবে একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে রূপান্তরের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের মূল ভিত্তি। এছাড়া, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিচারিক স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, এ কথাটি তিনি পুনরায় জোর দেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক চ্যালেঞ্জগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও সময়সূচি সম্পর্কে পূর্বে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, এই বছর শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ভোটার অংশগ্রহণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহের প্রচেষ্টা সম্পর্কে পূর্বে কোনো সরকারি বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। মির্জা ফখরুলের মন্তব্যের পরেও সরকারী দপ্তর থেকে কোনো স্পষ্ট উত্তর বা পরিকল্পনা জানানো হয়নি, যা বিষয়টি নিয়ে জনমতকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
বিএনপি এই পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে ব্যবহার করে, সরকারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অগ্রগতি না করার জন্য দায়ী করে তুলছে। মির্জা ফখরুলের মন্তব্যের ভিত্তিতে দলটি নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান না হলে ভোটারদের বিশ্বাস হারানোর ঝুঁকি উল্লেখ করেছে।
এই বিবৃতি নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। অবৈধ অস্ত্রের সমস্যার সমাধান না হলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভোটারদের অংশগ্রহণ ও ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই এই বিষয়টি সমাধানে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।



