২০২৬ সালের গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার অনুষ্ঠানে হাসি, অশ্রু ও উল্লাসের মিশ্রণ দেখা গিয়েছে। হোস্ট নিকি গ্লেসার মঞ্চে উঠে শিল্প জগতের বড় নামগুলোকে লক্ষ্য করে রসিকতা ছুঁড়ে দিলেন, তেমনি টেয়ানা টেলর তার প্রথম গ্লোব জয়কে চিত্তাকর্ষক ভাষণে প্রকাশ করলেন। টিমোথি শ্যালেমও তার গার্লফ্রেন্ড কাইলি জেনারকে সমর্থন জানিয়ে পুরস্কার গ্রহণের সময় মিষ্টি মুহূর্ত তৈরি করেন। এই অনুষ্ঠানটি গ্লোবের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
হোস্ট নিকি গ্লেসার মঞ্চে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তিনি তীক্ষ্ণ রসিকতা দিয়ে শো শুরু করেন। লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিও, সিবিএস নিউজ এবং হলিউডের সাম্প্রতিক এপস্টেইন ফাইলের বিষয়গুলোকে লক্ষ্য করে তিনি হাস্যকর মন্তব্য করেন। তার উদ্বোধনী ভাষণে নেটফ্লিক্সের ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা নিয়ে বিদ্রূপাত্মক প্রশ্ন তুলেন, “ওয়ার্নার ব্রাদার্সের বিড কত হবে? পাঁচ ডলার কি?” এমন রসিকতা দর্শকদের হাসি ফোটায়।
গ্লেসার টেলর সুইফটের ২০১৪ সালের হিট গান “স্টাইল” বাজিয়ে মঞ্চে প্রবেশের পর তৎক্ষণাৎ তার প্রত্যাশিত মনোলগে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি হোলিউডের বর্তমান অবস্থা, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার শোয়ের গুরুত্ব নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন, যা অনুষ্ঠানের টোনকে হালকা ও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল। তার পারফরম্যান্সে দর্শক ও শিল্পকর্মীদের মধ্যে তীব্র সাড়া দেখা যায়।
টেয়ানা টেলর প্রথমবারের মতো গোল্ডেন গ্লোব জয়ী হয়ে গর্বিত হলেন। পল থমাস অ্যান্ডারসনের “ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার” ছবিতে পারফিডিয়া বেভারলি হিলসের ভূমিকায় তিনি সেরা সহায়ক নারী অভিনেত্রী পুরস্কার পান। এই পুরস্কারটি রাতের প্রথম বিজয়ী হিসেবে উপস্থাপিত হয়, এবং অ্যামান্ডা সেহফ্রাইড ও জেনিফার গার্নার উভয়ই পুরস্কার প্রদান করেন।
পুরস্কার ঘোষণার সময় টেলরের চোখে অশ্রু ভাসে, এবং তিনি মঞ্চে উঠে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার স্বীকৃতিতে তিনি সহ-নামিদা জুলিয়া রবার্টসের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপের সুযোগ পান, যাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। টেলরের উষ্ণ ভাষণ এবং আবেগপূর্ণ প্রকাশনা দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করে, যা অনুষ্ঠানের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়।
টিমোথি শ্যালেমও গ্লোবের মঞ্চে উজ্জ্বল উপস্থিতি দেখান। সমালোচক চয়েস পুরস্কার জয়ের এক সপ্তাহ পরই তিনি সেরা পুরুষ অভিনেতা (সঙ্গীত বা কমেডি) বিভাগে “মার্টি সুপ্রিম” ছবির জন্য পুরস্কার পান। পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি কাইলি জেনারকে সমর্থন জানিয়ে মধুর শব্দে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যা ভক্তদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে। শ্যালেমের এই জয় তার ক্যারিয়ারের নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
অনুষ্ঠানে ওয়ান্ডা সাইকসের একটি হালকা মুহূর্তও ছিল, যেখানে তিনি রিকি গারভেসের সঙ্গে কাজের সম্ভাবনা নিয়ে মঞ্চে মজার কথোপকথন করেন। এই ছোট্ট রসিকতা শোকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল এবং দর্শকদের হাসি এনে দেয়।
সার্বিকভাবে ২০২৬ গোল্ডেন গ্লোবের অনুষ্ঠানটি হাস্যরস, আবেগ এবং সাফল্যের মিশ্রণ ছিল। নিকি গ্লেসারের তীক্ষ্ণ রসিকতা, টেয়ানা টেলরের হৃদয়গ্রাহী স্বীকৃতি এবং টিমোথি শ্যালেমের উষ্ণ সমর্থন একসাথে শোকে স্মরণীয় করে তুলেছে। এই মুহূর্তগুলো পরবর্তী বছরগুলোতে গ্লোবের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করবে।



