প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে জাপান সফর করবেন, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও যুব নীতি ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। এই সফরের আগে, ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা, ঢাকা-তে তিনি জাপানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের বিধবা আকি আবে-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতে আকি আবে ড. ইউনূসের শিনজো আবের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে, দুজনই পারস্পরিক স্মৃতিচারণে সময় কাটান। তিনি বিশেষভাবে ড. ইউনূসের নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে কীভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন, বিশেষত তার কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন।
ড. ইউনূসের উত্তরে তিনি তিনটি মূল ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান। প্রথমটি হল ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, যেখানে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এছাড়া, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা পরিবারের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য রিয়েল‑টাইমে পেতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারেন।
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ড. ইউনূস যুব উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষতা ও সম্পদ সরবরাহের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করা হবে। তৃতীয়টি হল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সংক্রান্ত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে অগ্রগতি বজায় থাকে।
সফরের সময়, সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমুদ্র গবেষণা, ওশান রিসার্চ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় বাড়িয়ে দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা সক্ষমতা উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে।
ড. ইউনূস বর্তমানে এনকারেজমেন্ট অব সোশ্যাল কন্ট্রিবিউশন (সামাজিক অবদান উৎসাহিতকরণ) ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফর করছেন। তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সামাজিক অবদান ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের প্রচারমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপ‑প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, যিনি ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একটি ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই তথ্য শেয়ার করেন।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত প্রেস সচিব শফিকুল আলমও সফরের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ড. ইউনূসের জাপান সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। জাপানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের সমন্বিত প্রকল্প চালু করার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলেন, ড. ইউনূসের এই সফর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ও প্রযুক্তি সুনিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে জাপানের উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণা ক্ষমতা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ড. ইউনূসের মার্চে জাপান সফর দেশের কূটনৈতিক ও উন্নয়নমূলক অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সফরের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, যুব ও টেকসই উন্নয়ন ক্ষেত্রের সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সমর্থন ও জ্ঞান অর্জন করা হবে। এই উদ্যোগের ফলস্বরূপ, বাংলাদেশের সামাজিক অবদান ও ডিজিটাল রূপান্তরের গতি ত্বরান্বিত হওয়ার প্রত্যাশা করা যায়।



