ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে ১১ জানুয়ারি রবিবার দুপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ফরিদপুর শাখার দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন ছাত্ররাজনীতি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে কলেজ প্রশাসনকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ১২ তারিখের পরে যদি কলেজে সশরীরে উপস্থিতি না থাকে এবং স্বাভাবিক রাজনীতির চর্চা না করা যায়, তবে কলেজের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবে। “ছাত্ররাজনীতি যদি বন্ধ হয়, এই মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ হয়ে যাবে”—এটি তার মূল দাবি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রুহের মাগফিরাতের কামনা করে একই দিনে দুপুর ১২টায় একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ড্যাব ফরিদপুর শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ আসিফ উল আলম সভাপতিত্ব করেন। জুলফিকার হোসেনের বক্তব্যের সময় তিনি উল্লেখ করেন, “মেডিক্যালে রাজাকারের আশীর্বাদের রাজনীতি হবে আর মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, সংগঠক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাজনীতি করতে পারবে না”। তিনি আরও যোগ করেন, “প্রয়োজনে বিএনপি রাজনীতি ছেড়ে আবার ছাত্রদলে যোগ দেব”।
ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ২৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকে কলেজে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম অনুমোদিত হয়নি। জুলফিকার হোসেনের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা শিবিরের সক্রিয় উপস্থিতি এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আড়ালে ছাত্রদের স্বাভাবিক অধিকার সীমিত করেছে। তিনি দাবি করেন, শিবিরের ভূমিকা পরিবর্তনের পর থেকে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারছে না, যদিও শিক্ষক ও নার্সদের উপস্থিতি অনুমোদিত হয়েছে।
বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ খান মো. আরিফ জানান, তিনি সভায় উপস্থিত ছিলেন, তবে জুলফিকার হোসেনের সব কথাবার্তা সঠিকভাবে ধরতে পারেননি। তবে তিনি স্বীকার করেন, কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মতবিরোধ চলমান। জুলফিকার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য কলেজ প্রশাসন ও শিবিরের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। তিনি উল্লেখ করেন, শিবিরের সক্রিয়তা ও গোপনীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো সাধারণ ছাত্রদের স্বাভাবিক অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করেছে।
বিএনপি নেতা আরও জানান, শিবিরের কার্যক্রমের ফলে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ হারাচ্ছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি ছাত্ররাজনীতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবে কলেজের কার্যক্রমে গুরুতর ব্যাঘাত ঘটবে এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের মুখে আসতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, ছাত্ররাজনীতি পুনরায় চালু না হলে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও শিক্ষার মান হ্রাস পাবে। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের অধিকার সংরক্ষণে আইনগত পদক্ষেপের সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়েছে।
বিএনপি ও শিবিরের মধ্যে চলমান তর্কের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন ও ছাত্রস্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। জুলফিকার হোসেনের সতর্কবার্তা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কলেজে রাজনৈতিক পরিবেশের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে চাপ দিচ্ছে। ভবিষ্যতে ছাত্ররাজনীতি পুনরায় অনুমোদিত না হলে, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ, আইনি চ্যালেঞ্জ এবং রাজনৈতিক আলোচনার নতুন পর্যায়ে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের অধিকার, কলেজের স্বায়ত্তশাসন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলগত অবস্থান একসাথে জড়িয়ে রয়েছে। সরকার ও শিক্ষামন্ত্রকের দৃষ্টিতে এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



