রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি সেবায় ৬০ বছর বয়সী প্রলয় চাকি গত রাত ৯ টার কাছাকাছি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আয়োজক আওয়ামী লীগের পবনা জেলা সাংস্কৃতিক বিষয়ক সচিব এবং গায়ক-সুরকার ছিলেন, একই সঙ্গে কারাগারে আটক অবস্থায় ছিলেন।
প্রলয় চাকিকে ১৬ ডিসেম্বর পবনা শহরের দিলালপুর এলাকায় তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে আগস্ট ৪, ২০২৪ তারিখে ঘটিত বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় জড়িত বলে দেখানো হয়, যা জুলাই বিদ্রোহের সময়ের একটি ঘটনা।
পবনা কারাগার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. ওমর ফারুকের মতে, প্রলয় চাকির দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ইতিহাস ছিল। রোগের অবনতি ঘটার পর তাকে প্রথমে শুক্রবার পবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সুপারিন্টেন্ডেন্ট জানান, রোগীকে হৃদযন্ত্রের আক্রমণ হয় এবং রাত্রিকালীন পর্যবেক্ষণের পর ৯ টার দিকে তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। মৃত্যুর পর প্রলয়ের দেহ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রলয়ের পরিবার ও সমবয়সীরা গ্রেফতারকালে যথাযথ চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তার পুত্র সনি চাকি বলেন, তার বাবা গ্রেফতারের সময় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলায় নাম না থাকলেও পরে তাকে বিস্ফোরণ মামলায় দেখানো হয়। তিনি আরও জানান, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের দীর্ঘ ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও কারাগারে অবস্থানকালে রোগের অবনতি বাড়ে, তবে কর্তৃপক্ষ পরিবারকে সময়মতো জানাতে ব্যর্থ হয়।
পরিবারের মতে, অন্যদের থেকে তথ্য পেয়ে তারা জরুরি হাসপাতালে পৌঁছান, তবে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে প্রলয় চাকির মৃত্যু ঘটে। এদিকে, কারাগার সুপারিন্টেন্ডেন্ট ওমর ফারুক এই অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে জানান, রোগীর মেডিকেল রেকর্ড অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং অবস্থা গুরুতর হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রলয়ের সাংস্কৃতিক অবদানের কথা উল্লেখ করে পবনা সমিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সচিব ভাস্কর চৌধুরী বলেন, তিনি ১৯৯০-এর দশকে একটি উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক কর্মী ছিলেন। গায়ক ও সুরকার হিসেবে তার পরিচয় রাজনৈতিক পদবির চেয়ে বেশি পরিচিত ছিল। তিনি শ্রী শ্রী রাম কৃষ্ণ শেবাশ্রমের সেক্রেটারিয়েটের দায়িত্বেও ছিলেন।
প্রলয় চাকির মৃত্যু নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীগুলি শোক প্রকাশ করেছে এবং তার পরিবারকে সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে, তার মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে কারাগার ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
আইনি দিক থেকে, প্রলয়ের দেহ হস্তান্তরের পর সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চালু থাকবে। পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি প্রয়োজনে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানাতে পারে, তবে বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশনা প্রকাশিত হয়নি।
প্রলয় চাকির মৃত্যু একটি দুঃখজনক ঘটনা, যা কারাগারভিত্তিক রোগীর স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা উত্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



