মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় দক্ষিণ বেতকা গ্রামে রাত্রিকালীন অভিযান চালিয়ে ৩৭ বছর বয়সী ফিরোজ (আবু তাহেরের ছেলে)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় তাঁকে ইয়াবা উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত মেশিন, বিশাল পরিমাণ রাসায়নিক দ্রব্য, ৮০০টি বড়ি এবং ২৫ গ্রাম আইস জব্দ করা হয়েছে। এই ধরা সামগ্রীগুলোকে মাদক উৎপাদন ও সরবরাহের অপরাধে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
অভিযানটি রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে দশটায় শুরু হয় এবং টঙ্গিবাড়ী থানার সেকেন্ড অফিসার রবিউল ইসলাম তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। ফিরোজের অবস্থান ছিল খালু রশীদ ঢালীর বাড়িতে, যেখানে তিনি গোপনভাবে মেশিন স্থাপন করে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। জব্দকৃত মেশিনটি বিদেশ থেকে আনা বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা হংকং সফরের পর ব্যবহার শুরু হয়।
পুলিশের মতে, ফিরোজের উৎপাদিত ইয়াবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হতো। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় এক দশক ধরে ঢাকায় মাদকের ব্যবসায় জড়িত ছিলেন এবং বহু মাদক মামলার শিকায় ছিলেন। পাঁচ বছর আগে তিনি দক্ষিণ বেতকা গ্রামে স্থানান্তরিত হয়ে ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন এবং সেখান থেকে মাদকের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে, ফিরোজ প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে হংকং সফর করেন এবং সেখান থেকে একটি আধুনিক উৎপাদন মেশিন নিয়ে আসেন। মেশিনটি খালুর বাড়ির পাকা ভবনের ভেতরে স্থাপন করা হয় এবং কুরিয়ার সেবা সহ বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে রাসায়নিক উপকরণ আমদানি করা হতো। এই উপকরণগুলো মেশিনের সঙ্গে মিলিয়ে বড় পরিমাণে ইয়াবা তৈরি করা সম্ভব হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফিরোজ স্বীকার করেন যে তিনি বিদেশি মেশিন ও রাসায়নিক ব্যবহার করে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবা উৎপাদন ও বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। তিনি জানান, এই মাদকগুলোকে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল। পুলিশ জানায়, ফিরোজের বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক মাদক সংক্রান্ত মামলা দায়ের রয়েছে এবং তার সহযোদ্ধা ও সহকর্মীদের সনাক্তকরণে অতিরিক্ত অভিযান চালানো হচ্ছে।
অভিযানের সময় উদ্ধার করা ৮০০টি বড়ি এবং ২৫ গ্রাম আইসের পাশাপাশি বিশাল পরিমাণে রসায়নিক দ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে, যা মাদক উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য। এই সামগ্রীগুলোকে ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে মাদক উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ করার জন্য একই ধরনের গোপন অপারেশন চালিয়ে যাবে। বর্তমানে ফিরোজকে টঙ্গিবাড়ী থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তাকে আদালতে হাজির করা হবে। মামলার পরবর্তী ধাপের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এই ঘটনার পর মাদক সংক্রান্ত তদন্তে জোরদার করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সতর্কতা বৃদ্ধি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদক উৎপাদন ও সরবরাহের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে সমাজের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।



