ইংল্যান্ডের প্রাক্তন দ্রুতগতি বোলার ড্যারেন গফ, ৫৫ বছর বয়সী, সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)‑এর এক ম্যাচে মন্তব্যকারী হিসেবে উপস্থিত হন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে টুর্নামেন্ট, বাংলাদেশি ক্রিকেট এবং নিজের ক্যারিয়ার সম্পর্কে বিস্তারিত মতামত শেয়ার করেন।
গফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০১টি ওয়ানডে উইকেট রয়েছে এবং তিনি ইংল্যান্ডের চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেটধারী বোলার হিসেবে স্বীকৃত। তার ক্যারিয়ার শেষের দিকে তিনি মন্তব্যকাজে মনোনিবেশ করে, বিশেষ করে বিপিএল‑এ তার উপস্থিতি দেশের দ্রুতগতি বোলারদের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছে।
বিপিএল‑এর আগে গফ ১২ বছর ধরে বিভিন্ন স্পোর্টস ইভেন্টের সম্প্রচার করেছেন। তিনি ক্রিকেটের পাশাপাশি তিনটি ফুটবল বিশ্বকাপ, দুইটি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ এবং গলফেরও কভারেজ করেছেন। টকস্পোর্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি বিশ্বের বৃহত্তম স্পোর্টস স্টেশনগুলোর একটি হিসেবে কাজ করেন এবং এসএ টোয়েন্টি, দা হান্ড্রেড, টি‑টোয়েন্টি ব্লাস্টের মতো টুর্নামেন্টে মন্তব্য করেছেন।
গফ উল্লেখ করেন যে তিনি মূলত ভিত্তিক সম্প্রচারক এবং গত ১২ বছরের প্রায় প্রতিদিনই কাজ করেন। তিনি কোচিংও করেন, তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঘুরে মন্তব্য করার সুযোগ কমে যায়। গত বছর তিনি নেপাল প্রিমিয়ার লিগে মন্তব্য করেছেন, তবে মায়ের মৃত্যুর কারণে পুনরায় অংশ নিতে পারেননি। এরপর তিনি বাংলাদেশে এসে বিপিএল‑এর কাজ গ্রহণ করেন।
বিপিএল‑এ গফের মন্তব্যের সংখ্যা সীমিত; তিনি জানান যে সিলেটের ম্যাচের পর আর কোনো ম্যাচে মন্তব্য করবেন না। সিলেটের ম্যাচ তার শেষ মন্তব্যের কাজ হবে এবং তার পরের কাজগুলোতে তিনি শ্রীলঙ্কা‑ইংল্যান্ড সিরিজে মন্তব্য করবেন, যা ২২ জানুয়ারি শুরু হবে।
বাংলাদেশি পেসারদের সম্পর্কে গফের মতামত বিশেষ দৃষ্টিনন্দন। তিনি নাহিদ রানা‑কে উল্লেখ করে বলেন, তার গতি তাকে চমকে দিয়েছে এবং ১৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতি কোনো দেশের জন্য বড় সম্পদ। গফের মতে রানা তিনটি ভিন্ন ফরম্যাটে (লাল ও সাদা) খেলতে সক্ষম এবং দেশের পেসিং আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শরিফুলের পারফরম্যান্স গফের দৃষ্টিতে ভালো লেগেছে; তিনি তাকে নতুন তবে প্রতিভাবান বলে উল্লেখ করেন। গফের মতে, মুস্তাফিজ (মুস্তাফিজুর রহমান) বিশ্বে শীর্ষ টি‑টোয়েন্টি বোলারদের মধ্যে একজন এবং তার বৈচিত্র্য তাকে বিশেষ করে তুলেছে। সাইফ উদ্দিনের কথাও গফ প্রশংসা করেন; তিনি বলছেন সাইফের গতি ও ব্যাটিং দক্ষতা মিশ্রণ তাকে এক বহুমুখী খেলোয়াড় করে তুলেছে।
গফের মন্তব্যে দেখা যায়, বাংলাদেশি দ্রুতগতি বোলাররা এখন আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সুযোগ পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই তরুণ বোলারদের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ দিলে তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নাম তুলে ধরতে পারবে।
মন্তব্যের পাশাপাশি গফ তার ব্যক্তিগত পরিকল্পনা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, বিপিএল‑এর পর তার সময়সূচিতে কিছু স্বল্পমেয়াদী কাজ রয়েছে, এবং তারপর শ্রীলঙ্কা‑ইংল্যান্ড সিরিজে মন্তব্যের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার কাজের পরিধি বিস্তৃত, তবে তিনি সবসময় দেশের বাইরে দীর্ঘ সময় না কাটিয়ে মন্তব্যের কাজ করতে পছন্দ করেন।
গফের ক্যারিয়ার এবং মন্তব্যের ধারা দেখায়, তিনি কেবল একজন প্রাক্তন খেলোয়াড় নয়, বরং স্পোর্টস মিডিয়ার একজন বহুমুখী ব্যক্তিত্ব। তার অভিজ্ঞতা এবং বিশ্লেষণ নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য দিকনির্দেশনা হতে পারে, বিশেষ করে যারা দ্রুতগতি বোলিংয়ে আগ্রহী।
বিপিএল‑এর এই সিজনে গফের উপস্থিতি এবং তার মন্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশি পেসারদের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়ছে। তার মন্তব্যগুলো দেশীয় ক্রিকেটের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।



