সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত স্প্যানিশ সুপার কাপের চূড়ান্ত ম্যাচে বার্সেলোনা ৩-২ স্কোরে রিয়াল মাদ্রিদকে পরাজিত করে শিরোপা রক্ষা করেছে। ম্যাচের প্রধান নায়ক ছিলেন ব্রাজিলিয়ান উইংার রাফিনহা, যিনি দু’টি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে জয়ী করিয়েছেন। কোচ হ্যান্সি ফ্লিক রাফিনহার মানসিকতা ও খেলাধুলার ধরনকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে প্রশংসা করেন।
রাফিনহা সাম্প্রতিক পাঁচটি ম্যাচে মোট সাতটি গোলের রেকর্ড গড়ে তুলেছেন, যার মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদবিরোধী এই জয়েও দু’টি গোল অন্তর্ভুক্ত। তার ধারাবাহিক গলসের গতি বার্সেলোনার আক্রমণকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং লা লিগের শীর্ষে থাকা দলকে অতিরিক্ত শক্তি যোগিয়েছে।
প্রায় দুই মাসের দীর্ঘ আঘাতের পর রাফিনহা শেষমেশ মাঠে ফিরে আসেন, যখন বার্সেলোনার ফর্ম অক্টোবর‑নভেম্বর মাসে কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল। তবে তার ফিরে আসা সঙ্গে সঙ্গে দলকে নতুন প্রাণবন্ততা এনে দেয়, যা কোচের মন্তব্যে স্পষ্ট।
ফ্লিক রাফিনহার মানসিকতা নিয়ে বলেন, “তার মানসিকতা অবিশ্বাস্য, তার গতিশীলতা পুরো দলের ওপর প্রভাব ফেলে।” তিনি আরও যোগ করেন, “রাফিনহা যখন মাঠে থাকে, তার তীব্রতা ও আত্মবিশ্বাস পুরো দলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, যা আমাদের জন্য অপরিহার্য।”
ম্যাচের প্রথমার্ধে রাফিনহা একটি পরিষ্কার সুযোগ মিস করেন, তবে তৎক্ষণাৎ জেদ্দায় বার্সেলোনার প্রথম গোলের সূচনা করেন। স্কোর সমতা ২-২ হলে, ২৯ বছর বয়সী রাফিনহা দূর থেকে একটি শট মারেন, যা ডিফ্লেকশনের সাহায্যে নেটের ভিতরে গিয়ে জয়ী গোল হয়ে ওঠে। এই গোলটি দলকে শেষ মুহূর্তে বিজয়ী করে তুলেছে।
ফ্লিক রাফিনহার এই দু’টি গোলকে দলের আত্মবিশ্বাসের মূলধন হিসেবে উল্লেখ করেন। “প্রথম সুযোগ মিস করলেও দ্বিতীয় সুযোগে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং গোলটি দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে,” তিনি বলেন। “এটাই রাফিনহা মাঠে নিয়ে আসে – প্রচণ্ড তীব্রতা, যা আমাদের প্রয়োজন।”
বার্সেলোনা গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদকে পরাজিত করে স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছিল এবং দেশীয় ত্রয়ী (লিগ, কাপ, সুপার কাপ) সম্পন্ন করেছিল। এই ধারাবাহিকতা দলকে এই সিজনের অন্যান্য লক্ষ্য অর্জনের জন্য দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করেছে।
ফ্লিক জয়কে দলকে ইতিবাচক মনোভাব ও আত্মবিশ্বাসের উৎস হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা এখন ভাল মেজাজে, আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। এই চূড়ান্ত ম্যাচটি রিয়াল মাদ্রিদবিরোধে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, এবং আবার জয় পেয়ে আমরা আনন্দিত।” তিনি যোগ করেন, “এটি আমাদের দশম ধারাবাহিক জয়, সব প্রতিযোগিতায়।”
কোচের রেকর্ডের কথা উল্লেখ না করে, তিনি বলেন, “যখন আমরা মনোযোগী থাকি, একসাথে খেলি, তখনই আমরা আজকের মতো পারফরম্যান্স দেখাই। দলের সঙ্গে আমার অনুভূতি খুবই ভালো, কারণ এই জয় আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
শেষ পর্যায়ে রোনাল্ড আরাউজোকে মাঠে আনা হয়, যিনি এক মাসের কাছাকাছি মানসিক স্বাস্থ্যের বিরতির পর ফিরে এসেছেন। ফ্লিক আরাউজোর জন্য এই শিরোপা জয়কে বিশেষ অর্থবহ বলে উল্লেখ করেন, “তার জন্য মাঠে দাঁড়িয়ে শিরোপা জয় করা বড় গর্বের বিষয়, এবং তিনি ফিরে এসে ভালো আছেন দেখে আমি আনন্দিত।”
বার্সেলোনা এখন লা লিগের শীর্ষে অবস্থান বজায় রেখে পরবর্তী ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে আবার মুখোমুখি হবে, যা দলকে আবারও শিরোপা রক্ষার সুযোগ দেবে।



