22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসৈয়দপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মাছের বাজার বন্ধ, তিন দিন ধারাবাহিক

সৈয়দপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মাছের বাজার বন্ধ, তিন দিন ধারাবাহিক

নিলফামারীর সৈয়দপুরে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা টানা তিন দিন মাছের বাজার বন্ধ রেখেছেন। রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত থেকে সব দোকান বন্ধ হয়ে যায়, কারণ চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। চাঁদাবাজির বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো মাছের লেনদেন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাতের সময় বাজারে পৌঁছালে দেখা যায়, সব কাঁচা মাছের স্টল, তেল ও মশলা বিক্রির ঘর সম্পূর্ণ বন্ধ। বিক্রেতারা দরজায় টেপ লাগিয়ে ‘বন্ধ’ চিহ্ন দিয়ে রেখেছেন এবং কোনো গ্রাহকই প্রবেশ করতে পারছে না। এই অবস্থা স্থানীয় ক্রেতা ও দূর-দূরান্তের পাইকারদের জন্য বড় ধাক্কা, কারণ সৈয়দপুরের মাছের বাজারই তাদের প্রধান সরবরাহ কেন্দ্র।

বিক্রেতাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওয়াকার আলী ও তার সহকর্মীরা নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করে আসছিলেন। তারা প্রতিদিনের বিক্রয় থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা চাঁদা হিসেবে নিতেন, যা ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবে মেনে চলত। তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদা আদায়ের সময় ব্যবসায়ীরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, ফলে উত্তেজনা বাড়ে।

অস্বীকৃতি পাওয়ার পর ওয়াকার আলী ও তার দল কয়েকজন মাছের বিক্রেতার ওপর হিংসাত্মক আক্রমণ চালায়। আক্রমণে কিছু বিক্রেতা শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, যদিও কোনো গুরুতর আঘাতের রিপোর্ট নেই। এই ঘটনার পর ব্যবসায়ীরা স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে, এবং প্রতিবাদ হিসেবে বাজারের সব দোকান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিক্রেতা রহমত আলী জানান, “বহু বছর ধরে আমরা ওয়াকার ও তার সঙ্গীদের চাঁদা দিয়ে চলেছি, কিন্তু দেশের আর্থিক পরিস্থিতি বদলে গেছে, আর এখন চাঁদা দিয়ে কীভাবে পরিবার চালাবো তা কঠিন হয়ে পড়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “মাছ বিক্রি থেকে যে আয় হয়, তা দিয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন, তাই চাঁদা আর দিতে পারছি না।”

অন্য এক বিক্রেতা নওশাদ হোসেন পলু বলেন, “চাঁদাবাজির প্রতিবাদে তারা আমাদের ওপর হিংসা চালিয়েছে, তাই আমরা একসাথে দোকান বন্ধ রেখেছি এবং থানা-তে অভিযোগ দায়ের করেছি। সুষ্ঠু বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা মাছের ব্যবসা বন্ধ রাখব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আজ রাস্তায় বিক্ষোভ করেছি, যদি ন্যায়বিচার না হয় তবে বড় আন্দোলন শুরু করব।”

সৈয়দপুর থানা ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। যথাসম্ভব দ্রুত সমাধান করা হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, তদন্তের সময়ে সকল প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের আইনি দায়িত্ব নিশ্চিত করা হবে।

থানার মতে, চাঁদাবাজি ও হিংসা সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, চাঁদা আদায়ের পদ্ধতি ও তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এবং হিংসাত্মক আক্রমণের জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হতে পারে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা এখনো পর্যন্ত কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, কারণ চাঁদাবাজির বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা পুনরায় খোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি। স্থানীয় গ্রাহক ও পাইকারদের জন্য মাছের সরবরাহের অভাবের ফলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাধারণ জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, ব্যবসায়ীদেরও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্পষ্ট রায় না আসে, তবে বাজারের বন্ধ অবস্থা দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments