দারেন গফ, প্রাক্তন ইংল্যান্ডের দ্রুতগতি বোলার, ২০২৬ সালের শীতকালে সিলেটের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ম্যাচের সময় বাংলাদেশের পেসারদের পারফরম্যান্স এবং ইংল্যান্ডের আশে সিরিজের ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের দ্রুতগতি বোলার হিসেবে গফের স্মরণীয় কর্মজীবন ছিল, তার মসৃণ ও পুনরাবৃত্তি করা অ্যাকশন তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাপক অনুকরণীয় হয়ে উঠেছিল। সাবকন্টিনেন্ট ও অস্ট্রেলিয়ায় তার সফলতা তাকে সমসাময়িকদের মধ্যে আলাদা করে তুলেছিল।
প্রফেশনাল ক্যারিয়ার শেষ করার পর গফ মন্তব্যকর্তা, কোচ, প্রশাসক এবং টেলিভিশন পার্সোনালিটি হিসেবে বিভিন্ন ভূমিকা গ্রহণ করে আসছেন। এই বছর তিনি বিপিএল-এর টেলিকমেন্টারি প্যানেলে অংশগ্রহণ করছেন, যা তাকে দেশের দ্রুতগতি বোলারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের সুযোগ দিচ্ছে।
গফের মতে, নাহিদ রানা তার গতি দিয়ে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছেন; তিনি ১৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টারও বেশি বোলিং করতে সক্ষম এমন একটি প্রতিভা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমন গতি সকল ফরম্যাটে বড় সম্পদ, যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়।
তানজিদ হাসান সাকিবের পারফরম্যান্সও গফের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয়। তিনি বলছেন সাকিবের ধারাবাহিকতা এবং নিয়ন্ত্রণ দলকে শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে মুস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্বব্যাপী সেরা টি২০ বোলারদের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে, তার ভ্যারিয়েশনগুলোকে মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাইফুদ্দিনের বহুমুখিতা গফের দৃষ্টিতে আকর্ষণীয়; তিনি শুধু বোলার নয়, ব্যাটিংয়ে ও অবদান রাখতে সক্ষম। এই বৈচিত্র্য দলকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নমনীয়তা প্রদান করে।
বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে স্থান অর্জনের প্রতিযোগিতা বর্তমানে তীব্র, গফ উল্লেখ করেন যে এই প্রতিযোগিতা দলের সামগ্রিক গুণগত মানকে উঁচুতে নিয়ে যায়।
রিপন মন্ডোলের রিভার্স সুইং দক্ষতা গফের দৃষ্টিতে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, বিশেষ করে সুপার ওভারের সময় বামহাতি ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে তার চালনা প্রশংসনীয়। যদিও টুর্নামেন্টে রিভার্স সুইং ব্যাপক না হলেও মন্ডোলের চাপের মধ্যে সৃজনশীলতা গফকে মুগ্ধ করেছে।
হাসান মাহমুদের পারফরম্যান্সও গফের নজরে এসেছে; তিনি ধারাবাহিক গতি ও নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় দেখিয়েছেন, যা দলের গভীরতা বাড়াচ্ছে।
গফ তুলনা করে বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ দ্রুতগতি বোলারদের গঠন ভারতের পূর্বের পর্যায়ের মতো, যেখানে একটি বিশাল পুল গড়ে তোলা হচ্ছে। এই ধরনের পুল দলকে নিউ জিল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকায়ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে।
ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক আশে সিরিজের পারফরম্যান্স গফের মতে খুবই হতাশাজনক ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, যদি অস্ট্রেলিয়ার সব বোলার ফিট থাকত, তবে সিরিজটি সহজেই ৫-০ ফলাফল দিতে পারত।
ইংল্যান্ডের বর্তমান কৌশল, বিশেষ করে ‘বাজবল’ পদ্ধতি, গফের দৃষ্টিতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে; তিনি বলছেন, এই পদ্ধতি সফল করতে ধারাবাহিকতা ও মানসিক দৃঢ়তা প্রয়োজন।
দারেন গফের মন্তব্যগুলো বিপিএল-এর টেলিকমেন্টারিতে শোনার পর, বাংলাদেশি পেসারদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা সম্পর্কে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি নিজের ক্যারিয়ার ও বর্তমান ক্রিকেটের পরিবর্তনশীল প্রবণতা নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণও প্রদান করেছেন, যা তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য প্রেরণার উৎস হতে পারে।



