সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রবিবার অনুষ্ঠিত বিপিএল ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ২০ ওভারে ১৮৪ রান ৭ উইকেটের সঙ্গে লক্ষ্য অর্জন করে, ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৪১ রনে হারিয়ে টানা দুই জয় নিশ্চিত করে। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেওয়া নোয়াখালী দল, এই সিদ্ধান্ত বিপিএল ইতিহাসে মাত্র তিনটি ম্যাচে দেখা গেছে, যার মধ্যে দু’বার নোয়াখালীই করেছে।
বাবা-ছেলের জুটি হোসেন ইসাখিল ও মোহাম্মদ নাবি ম্যাচের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ইসাখিল প্রথম ইনিংসে ৯২ রান সংগ্রহ করে, সাতটি চতুর্থ এবং পাঁচটি ছয় দিয়ে দ্রুত স্কোর বাড়ায়। তার আউট হওয়া পর্যন্ত দল ৬০ রান করে, যা টার্গেটের অর্ধেকের কাছাকাছি। ইসাখিলের রান শেষ হয় সরাসরি থ্রোয়ে রান-আউটের মাধ্যমে, যা দর্শকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি করে।
ইসাখিলের সঙ্গে সঙ্গী ছিলেন সৌম্য সরকার, যিনি শুরুরই কয়েক ওভারে ধারাবাহিক চতুর্থের মাধ্যমে ব্যাটিং ফ্লো বজায় রাখেন। সৌম্য চারটি চতুর্থের পর ২৫ রান করে, তবে মাঝখানে আব্দুল্লাহ আল মামুনের শটের মাধ্যমে মিড উইকেটের সীমান্তে আউট হন। তার দ্রুত ৪৮ রান ২৫ ball-এ দলকে শক্তিশালী শুরুর ভিত্তি দেয়।
পাওয়ারপ্লে সময় নোয়াখালী ৬৪ রান সংগ্রহ করে, পাঁচ ওভারে মোট ১১টি বাউন্ডারি মারার মাধ্যমে গতি বাড়ায়। এই সময়ে ইসাখিল ও সৌম্য উভয়ই ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক শট খেলেন, যা প্রতিপক্ষের বোলিংকে চ্যালেঞ্জ করে। পাওয়ারপ্লে শেষে প্রথম উইকেট ইসাখিলের রান-আউট, যা দলের মাঝখানে সামান্য ধাক্কা দেয়।
দলটি দশম ওভারে দ্রুত ১০০ রান পার করে, এরপর সৌম্যকে শটের ভুলের কারণে আউট করা হয়। শাটলিং বোলার শাহাদাত হোসেনের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, ফলে তার ব্যাটিংয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রইল না। তবু নোয়াখালী ১৪৩ রানে ঢাকা ক্যাপিটালসকে আটকে রাখে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জয়ের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
ঢাকা ক্যাপিটালসের ব্যাটিং শুরুতে কিছুটা ধীর গতি দেখায়, তবে শেষ পর্যন্ত ১৪৩ রান করে। তবে নোয়াখালীয়ের বোলিং আক্রমণ তাদের লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট ছিল। মোহাম্মদ নাবি, যিনি দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন, যা প্রতিপক্ষের ব্যাটিংকে বাধাগ্রস্ত করে। তার বোলিং পারফরম্যান্স দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
নাবির বোলিংয়ে নেওয়া দুটি উইকেটের মধ্যে একটি ছিল ইসাখিলের রান-আউটের পরপরই, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নাবি নিজেও ব্যাটিংয়ে ৮ রানে অবদান রাখেন, যদিও তার সেঞ্চুরি অর্জন না হলেও তিনি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলেন।
এই জয় নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তারা পূর্বে ছয়টি ম্যাচ পরপর হারিয়ে হতাশার মুখে ছিল। দুইটি ধারাবাহিক জয়ের মাধ্যমে দলটি আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করে এবং লিগের শীর্ষে ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়ায়।
কোচের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে, বাবা-ছেলের সমন্বয় এই ম্যাচে দলের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইসাখিলের দীর্ঘ ইনিংস এবং নাবির কার্যকর বোলিংকে দলটি ভবিষ্যৎ ম্যাচে মূল শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।
পরবর্তী ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মুখোমুখি হবে গাজীপুর গ্ল্যাডিয়েটরস, যেখানে টস জিতলে আবার ব্যাটিং বেছে নেওয়া সম্ভব হবে। দলটি এখন ধারাবাহিকতা বজায় রেখে লিগের শীর্ষে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করবে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায়, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মোট স্কোর ১৮৪/৭, যেখানে ইসাখিলের ৯২ রান সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। বোলিংয়ে নাবি ২ উইকেটের সঙ্গে দলকে সাফল্যের পথে নিয়ে গেছেন। ঢাকা ক্যাপিটালসের ১৪৩ রান এবং ৪১ রনের পার্থক্য নোয়াখালীকে লিগে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এই জয় নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা দলকে পরবর্তী ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করতে সাহায্য করবে। ভক্তদের উল্লাস এবং দলের অভ্যন্তরীণ উচ্ছ্বাস এই জয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যৎ গেমে আরও ভালো পারফরম্যান্সের ইঙ্গিত দেয়।



