22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানে প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে হিংসাত্মক সংঘর্ষ, দুই পুলিশ নিহত

ইরানে প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে হিংসাত্মক সংঘর্ষ, দুই পুলিশ নিহত

বুধবার ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী প্রতিবাদকারীদের এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক সংকটের ফলে শুরু হওয়া প্রতিবাদে একাদশ দিন। দক্ষিণ-পশ্চিমের লর্ডেগান শহরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা দুইজন পুলিশকে গুলি করে হত্যা করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিবাদকারীদের উপর গুলি ও হালকা গ্যাস ব্যবহার করে দমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, কিছু প্রতিবাদকারী পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

ইরানের অর্ধ-সরকারি ফার্স সংবাদ সংস্থা, যা বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ, লর্ডেগানে ঘটিত গুলিবর্ষণকে নিশ্চিত করেছে। অন্যান্য শহরে শুটিং এবং হালকা গ্যাসের দৃশ্য ফুটেজে দেখা যায়, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলিবর্ষণ এবং গ্যাসের মাধ্যমে ভিড়কে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

মানবাধিকার কর্মী সংস্থা HRANA অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রতিবাদ ১১১টি শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ইরানের সব ৩১টি প্রদেশকে অন্তর্ভুক্ত করে। সংঘর্ষে অন্তত ৩৪জন প্রতিবাদকারী এবং চারজন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, আর প্রায় ২,২০০ জন প্রতিবাদকারী গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিবিসি পার্সিয়ান ২১জনের মৃত্যু ও পরিচয় নিশ্চিত করেছে, আর ইরানি কর্তৃপক্ষ পাঁচজন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু জানিয়েছে। উভয় সূত্রই উল্লেখ করেছে যে মৃত্যুর সংখ্যা এখনও বাড়তে পারে, তবে বর্তমান পর্যন্ত এ সংখ্যাই সর্বশেষ তথ্য।

প্রতিবাদের সূচনা হয়েছিল ২৮ ডিসেম্বর, যখন তেহরানের বাজারে দোকানদাররা রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। রিয়াল ডলার বিপরীতে রেকর্ড নিম্ন স্তরে পৌঁছায়, মুদ্রাস্ফীতি ৪০% ছাড়িয়ে যায়, এবং পারমাণবিক প্রোগ্রামের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি দুর্নীতি অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলেছে।

শীঘ্রই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে যোগ দেয়, এবং প্রতিবাদে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান শোনা যায়, কখনও কখনও শাহী পরিবারের নির্বাসিত সদস্য রেজা পাহলভির সমর্থনেও স্লোগান শোনা যায়।

বুধবারের ভিডিওতে তেহরানের উত্তর-পশ্চিমে কজভিন শহরে বড় ভিড়ের ছবি দেখা যায়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা “শাসককে মরণ” এবং “শাহের দীর্ঘায়ু” মতো স্লোগান উচ্চারণ করে। একই সময়ে গালফের বন্দর শহর বান্দার আব্বাসে প্রতিবাদকারীরা স্লোগান গাইছে, যা দেশের বিভিন্ন অংশে বিরোধের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে।

সরকারি পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধ হিংসা বন্ধ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে প্রতিবাদকারীরা দাবি করে যে অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত না হওয়া পর্যন্ত শান্তি সম্ভব নয়, এবং তারা দেশের ভবিষ্যৎ নীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে চলেছে।

এই পরিস্থিতি ইরানের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং তার অর্থনৈতিক সংকটের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ এবং প্রতিবাদকারীদের দাবি কীভাবে সমন্বিত হবে, তা দেশের স্থিতিশীলতা নির্ধারণের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

৯৭/১০০ ৪টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসিইত্তেফাকবিডিনিউজ২৪বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments