19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যলন্ডনের মূর্ফিল্ডস হাসপাতালে হাইপোটনি রোগে নতুন ইনজেকশন দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিল

লন্ডনের মূর্ফিল্ডস হাসপাতালে হাইপোটনি রোগে নতুন ইনজেকশন দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিল

লন্ডনের মূর্ফিল্ডস হাসপাতালের বিশেষায়িত ক্লিনিক হাইপোটনি নামে বিরল চোখের রোগে নতুন এক ইনজেকশন ব্যবহার করে রোগীর দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার করেছে। এই পাইলট গবেষণায় আটজন রোগীর মধ্যে সাতজনের দৃষ্টির উন্নতি দেখা গেছে, এবং প্রথম সফল রোগী নিকি গাই, ৪৭ বছর বয়সী, তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।

নিকি গাই পূর্বে আঙুল গুনে দেখার সীমা এবং ধূসর দৃষ্টিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন, ঘরের ভিতরে ও বাইরে চলাচল স্মৃতির ওপর নির্ভর করতেন এবং নিকটবর্তী বস্তু দেখতে বড় লুপ ব্যবহার করতে হতো। নতুন ইনজেকশন গ্রহণের পর তিনি অধিকাংশ অক্ষর পড়তে সক্ষম হয়েছেন এবং চোখের পরীক্ষার চার্টে মাত্র এক লাইন কমে গেছেন, যা চালনার জন্য আইনগত সীমার কাছাকাছি।

তিনি জানান, দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া তার জন্য জীবনের বড় পরিবর্তন, কারণ এখন তিনি নিজের সন্তানকে বড় হতে দেখতে পারেন এবং দৈনন্দিন কাজগুলোতে আর লুপের ওপর নির্ভর করতে হয় না। যদিও তিনি এখনো গাড়ি চালাতে পারবেন না, তবু তিনি এই অবস্থাকে সন্তোষজনক বলে স্বীকার করেছেন।

হাইপোটনি হল এমন একটি অবস্থা যেখানে চোখের ভেতরের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, ফলে চোখের গঠন ধসে পড়ে এবং দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়। এই চাপের হ্রাস চোখের স্বাভাবিক জেলসাম তরল উৎপাদনের ঘাটতি, আঘাত, প্রদাহ, কিছু শল্যচিকিৎসা বা নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ঘটতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করা হলে সম্পূর্ণ অন্ধত্বের ঝুঁকি থাকে।

পূর্বে ডাক্তাররা স্টেরয়েড ও সিলিকন তেল ব্যবহার করে চোখের ভলিউম বাড়ানোর চেষ্টা করতেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে এই পদার্থগুলো বিষাক্ত হতে পারে এবং দৃষ্টির উন্নতি সীমিত থাকে। সিলিকন তেল চোখের পেছনের কোষগুলোকে আচ্ছাদিত করে রাখে, ফলে রোগীকে ঝাপসা দৃশ্য দেখা যায়।

মূর্ফিল্ডসের গবেষক দল এই সমস্যার সমাধানে হাইড্রোক্সি প্রোপিল মেথাইলসেলুলোজ (HPCM) নামের স্বচ্ছ, পানির ভিত্তিক জেল ব্যবহার করে দেখেছেন। এই জেল কম খরচে পাওয়া যায় এবং চোখের ভেতরে চাপ বাড়িয়ে স্বাভাবিক আকার পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে, পাশাপাশি দৃষ্টির গুণগত মানেও উন্নতি আনে।

পাইলট স্টাডিতে মোট আটজন রোগীকে এই জেল ইনজেকশন দেওয়া হয়, যার মধ্যে সাতজন উল্লেখযোগ্য দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার রিপোর্ট করেছেন। রোগীরা চোখের পরীক্ষায় বেশিরভাগ লাইন সঠিকভাবে পড়তে পেরেছেন এবং দৈনন্দিন জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেছেন। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ এবং পূর্বের থেরাপির তুলনায় কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখায়।

নিকি গাইয়ের ক্ষেত্রে, ইনজেকশনের পর তিনি এখন ছোট টেক্সটও সহজে পড়তে পারেন এবং বাড়ির আশেপাশে চলাচল করার সময় স্মৃতির ওপর নির্ভর না করে সরাসরি দৃষ্টিতে নির্ভর করতে পারেন। তিনি ভবিষ্যতে গাড়ি চালাতে না পারলেও, বর্তমান দৃষ্টিশক্তি বজায় থাকলে তা তার জন্য যথেষ্ট সন্তোষজনক।

এই নতুন থেরাপি হাইপোটনি রোগের চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং গবেষকরা আরও বড় ক্লিনিকাল ট্রায়াল চালিয়ে ফলাফল নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছেন। রোগীর দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার শুধু ব্যক্তিগত জীবনের মান উন্নত করে না, বরং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্যও খরচ কমিয়ে দেয়।

হাইপোটনি রোগে আক্রান্ত রোগী ও তাদের পরিবারকে এই নতুন বিকল্প সম্পর্কে জানার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে, এবং চিকিৎসকের পরামর্শে উপযুক্ত সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ হলে, অন্ধত্বের ঝুঁকি কমে অনেকের জীবনমান উন্নত হতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments