লস এঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে অনুষ্ঠিত ২০২৬ গ্লোবি পুরস্কার অনুষ্ঠানে ১৬ বছর বয়সী ওয়েন কুপার টেলিভিশন সিরিজের সেরা সহায়ক অভিনেতা বিভাগে জয়লাভ করে ইতিহাস রচনা করেন। গ্লোবি অ্যাওয়ার্ডসের এই শাখায় সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী হওয়ার পাশাপাশি তিনি তরুণ অভিনেতাদের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন।
কুপারকে এই সম্মান প্রদান করা হয় তার স্টিফেন গ্রাহাম-অধিনায়িত নেটফ্লিক্স সীমিত সিরিজে প্রদর্শিত পারফরম্যান্সের জন্য। পুরস্কার গ্রহণের সময় তিনি মঞ্চে উঠে নিজের অদ্ভুত অনুভূতি প্রকাশ করেন, বলেন যে গ্লোবি মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা যেন স্বপ্নের মতো এবং তিনি ও তার পরিবার যে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
অভিনয় জগতে প্রবেশের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কুপার একসময় নিজেকে শুধুমাত্র ‘হয়তো ঠিক হবে’ এমন একটি বিকল্প হিসেবে দেখেছিলেন। তিনি নাট্যশালায় ভর্তি হন, যেখানে একমাত্র ছেলেটি হওয়ায় প্রথমে কিছুটা লজ্জা বোধ করেন, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেই পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেন এবং তার দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পান।
মঞ্চে তার বক্তব্যে তিনি নিজের শিক্ষার্থী অবস্থাকে তুলে ধরেন, বলেন যে তিনি এখনও শিখতে থাকেন এবং সামনে থাকা প্রতিটি শিল্পী ও পরামর্শদাতার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করেন। এই ধরণের আত্মবিশ্লেষণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
কুপারের এই জয়কে তরুণ অভিনেতা রিকি শ্রোডারের রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়, যিনি ১৯৮০ সালে ‘দ্য চ্যাম্প’ ছবিতে অভিনয় করে মাত্র নয় বছর বয়সে গ্লোবি জিতেছিলেন। তবে কুপারকে সেরা সহায়ক অভিনেতা বিভাগে জয়লাভের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পূর্বে এই বিভাগে সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী ছিলেন ক্রিস কোলফার, যিনি ২০১০ সালে ২০ বছর বয়সে পুরস্কার জিতেছিলেন।
এই বছরের সেরা সহায়ক অভিনেতা শিরোপার জন্য অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন ‘অ্যাডলেসেন্স’ সিরিজের আরেকজন তরুণ অভিনেতা অ্যাশলি ওয়াল্টার্স, ‘দ্য মর্নিং শো’ থেকে বিলি ক্রুডাপ, ‘সেভারেন্স’ থেকে ট্র্যামেল টিলম্যান, এবং ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ থেকে জেসন আইসাক্স ও ওয়ালটন গগিন্স। প্রত্যেকের পারফরম্যান্সই সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে, তবে কুপারের অভিনয় বিশেষভাবে নজরে এসেছে।
গ্লোবি পুরস্কার অনুষ্ঠানটি ডিক ক্লার্ক প্রোডাকশনসের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়, যা পেন্সকে মিডিয়া এল্ড্রিজের যৌথ উদ্যোগের অধীনে পরিচালিত। এই সংস্থা পেন্সকে মিডিয়া কর্পোরেশন ও এল্ড্রিজের মালিকানাধীন এবং একই সঙ্গে দ্য হলিউড রিপোর্টারও পরিচালনা করে।
কুপারের এই সাফল্য তরুণ শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়াবে, বিশেষ করে যারা এখনও নিজের পথ খুঁজে বের করার প্রক্রিয়ায় আছেন। তার গল্প দেখায় যে সঠিক সুযোগ ও কঠোর পরিশ্রমের সমন্বয়ে কোনো বয়সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করা সম্ভব। গ্লোবি জয়ের পর কুপার আরও বড় প্রকল্পে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন, যা তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।



