সিলেটের মাঠে শনিবার নোয়াখালী ও ঢাকা দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষস্থানীয় লিগের ম্যাচে নোয়াখালী ১৮৫ রানে বিপুল সুবিধা নিয়ে জয়লাভ করে, আর ঢাকা মাত্র ৪১ রান সংগ্রহ করে হারের মুখোমুখি হয়। এই ফলাফলকে নির্ধারিত করে নোয়াখালীর তরুণ ওপেনার ইসাখিলের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স, যিনি ৬০ বলের মধ্যে ৯২ রান তৈরি করে দলের স্কোরের মূল ভিত্তি গড়ে তোলেন।
ইসাখিলের পরিচয় এখনও তার পিতার নামে, আফগান ক্রিকেটের কিংবদন্তি মোহাম্মাদ নাবিরের সন্তান হিসেবে পরিচিত। যদিও তার নামের সঙ্গে পিতার সুনাম যুক্ত, তবে ১৯ বছর বয়সী এই ওপেনার নিজস্ব সাফল্য দিয়ে স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলতে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
ম্যাচের শুরুর দিকে ইসাখিল ধারাবাহিকভাবে শট চালিয়ে স্কোরে গতি আনেন। তিনি ৬০ ডেলিভারিতে ৯২ রান সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে ছয়টি সিক্স এবং একটি ফোরের মাধ্যমে আক্রমণাত্মক রণবিন্যাস প্রদর্শন করেন, যা দলের মোট স্কোরে বড় অবদান রাখে। তার আউট হওয়ার আগে তিনি ইতিমধ্যে ৫০ রানের একটি স্থিতিশীল জুটি গড়ে তোলেন, যা পিতার সঙ্গে ভাগ করে নেন।
ইসাখিলের পিতা, যিনি নিজেও দলের সদস্য হিসেবে মাঠে ছিলেন, তার সঙ্গে ৫০ রানের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পর, নোয়াখালীর স্কোর দ্রুত বাড়তে থাকে। উভয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা দলকে ১৮৫ রানে স্থাপন করে, যা ঢাকা দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
ঢাকার ব্যাটিং লাইনআপের মুখোমুখি হয়ে, মিঠুনের অধিনায়কত্বে দলটি মাত্র ৪১ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এই কম স্কোরের ফলে নোয়াখালী ১৪৪ রানের পার্থক্যে জয়লাভ করে, যা ম্যাচের ফলাফলকে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে।
ম্যাচের পর ঢাকা ক্যাপ্টেন মিঠুন ইসাখিলের পারফরম্যান্সকে চমকপ্রদ বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ইসাখিলের এমন পারফরম্যান্স আমাদের প্রত্যাশার বাইরে, তার আউটিং আমাদের জন্য এক বড় বিস্ময়।” এই মন্তব্যে তিনি তরুণের দ্রুত উত্থানকে স্বীকৃতি দেন।
মিঠুনের মন্তব্যে আরও উঠে আসে বিদেশি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে তার হতাশা। তিনি উল্লেখ করেন, “বিদেশি ক্রিকেটারদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা বেশি থাকে, তারা ম্যাচের ফলাফল বদলে দিতে পারে। তবে আমাদের দলে বিদেশি খেলোয়াড়দের অবদান প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “মানের দিক থেকে তারা নিঃসন্দেহে উচ্চমানের ক্রিকেটার, বিশ্বব্যাপী তাদের খেলা দেখা যায়। কিন্তু আমাদের মাঠে তাদের পারফরম্যান্সে তেমন কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।” এই বক্তব্যে তিনি বিদেশি খেলোয়াড়দের বর্তমান ফর্মের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
নোয়াখালীর জন্য ইসাখিলের এই আউটিং দলকে আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা দেয়। তার দ্রুত স্কোরিং ক্ষমতা এবং পিতার সঙ্গে গড়ে তোলা অংশীদারিত্ব দলকে শক্তিশালী শুরুর ভিত্তি প্রদান করে, যা পরবর্তী ম্যাচে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
মাঠে দেখা গিয়েছে যে নোয়াখালীর ব্যাটিং লাইনআপে তরুণদের উত্থান এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় দলকে সমন্বিত শক্তিতে পরিণত করেছে। ইসাখিলের পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করে দলের কৌশলগত পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
লিগের পরবর্তী রাউন্ডে নোয়াখালীকে নতুন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে, তবে এই জয় এবং ইসাখিলের উজ্জ্বল আউটিং দলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সারসংক্ষেপে, সিলেটের এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে নোয়াখালী ১৮৫ রানে বড় জয় অর্জন করে, যেখানে ১৯ বছর বয়সী ইসাখিল ৯২ রান দিয়ে দলের সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, ঢাকা দলের ক্যাপ্টেন মিঠুন বিদেশি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করে, যা দলের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।



