ইরানের রাজধানী তেহরানে চলমান সরকারবিরোধী প্রতিবাদে সশস্ত্র সংঘর্ষের ফলে কমপক্ষে ২১৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত এবং ১০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মারা গেছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক পদক্ষেপের সতর্কতা জানিয়ে দেন, আর ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আক্রমণের হুমকি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়।
বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুলিবিদ্ধের সংখ্যা বেড়েছে, ফলে তেহরানের ছয়টি প্রধান হাসপাতালে আহত ও মৃতদের সংখ্যা সামলাতে অক্ষম অবস্থায় পৌঁছেছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ায় রোগীর জন্য শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কমে গেছে, এবং কর্মীদেরও শারীরিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ আহতের শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে রাবার বুলেটের আঘাতও দেখা গেছে। গুলিবিদ্ধের আঘাত শিরা, মাথা ও বুকে সরাসরি লেগেছে, যা জরুরি শল্যচিকিৎসা ছাড়া বাঁচা কঠিন করে তুলেছে। হাসপাতালের কর্মীরা উল্লেখ করেন, রোগীর সংখ্যা বাড়ার ফলে জরুরি কক্ষের অপেক্ষা সময় দীর্ঘায়িত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামরিক সতর্কতা শুক্রবার পুনরায় প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি ইরানের সহিংস দমন নীতি শেষ করার জন্য সম্ভাব্য আক্রমণের ইঙ্গিত দেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ইরানের সরকার বিক্ষোভার শান্তিপূর্ণ স্বভাবকে ‘সহিংস নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে অস্বীকার করে।
ইরানের সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আক্রমণাত্মক হুমকি জানিয়ে, দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তেহরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর সংখ্যা ১০৯-এ পৌঁছেছে, যা সরকারের কঠোর দমন নীতির ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের সামাজিক মিডিয়া পোস্টে তিনি ইরানিরা এখন স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছে এবং অন্য সময়ের তুলনায় বেশি চাহিদা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি প্রকাশ করে ইরানের জনগণকে আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের ওপর সামরিক আক্রমণ চালানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের সূত্রে জানা যায়, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সম্ভাব্য আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে।
বিক্ষোভের তীব্রতা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি তেহরানের দিকে ফিরে এসেছে। মানবাধিকার সংস্থা এবং প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানের মানবিক সংকটের দিকে মনোযোগ দিয়ে জরুরি সাহায্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে; সরকার বিক্ষোভকারীদের ‘সৃষ্টিকর্তার শত্রু’ বলে অভিহিত করে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, আর প্রতিবাদকারীরা স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের দাবি করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সতর্কতা এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া উভয়ই অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোতে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আক্রমণ বাস্তবায়িত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
অতএব, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনই তীব্র হয়ে উঠবে; যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং অন্যান্য প্রধান শক্তির মধ্যে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে। ভবিষ্যতে কোনো সামরিক সংঘাতের আগে কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হবে বলে আশা করা যায়।
এই ঘটনাগুলো ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে পুনর্গঠন করতে পারে, যেখানে জনগণের স্বাধীনতার দাবিগুলো সরকারী নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নের দিকে নিয়ে যাবে। বর্তমান পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হবে, তা নির্ভর করবে দেশীয় ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর।



