অস্ট্রেলিয়ার নতুন শিশু সামাজিক মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার প্রথম সপ্তাহে মেটা প্রায় পাঁচ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। এই পদক্ষেপটি ১৬ বছরের নিচের অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডস থেকে দূরে রাখতে নেওয়া হয়েছে।
ডিসেম্বরে প্রণীত আইনটি সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাধ্য করে ১৬ বছরের নিচে কোনো ব্যবহারকারীকে তাদের সেবা প্রদান না করতে। সরকার ও শিশু সুরক্ষা সমিতি দাবি করে, এই নিষেধাজ্ঞা অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু ও অ্যালগরিদমের প্রভাব থেকে শিশুকে রক্ষা করবে।
মেটা জানিয়েছে, নতুন নিয়ম মেনে চলার প্রথম সপ্তাহে মোট ৫৫০,০০০ অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এতে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও থ্রেডসের ব্যবহারকারী অন্তর্ভুক্ত, যাদের বয়স যাচাই করা না গিয়ে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছে।
বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে ৩,৩০,৬৩৯টি, ফেসবুকে ১,৭৩,৪৯৭টি এবং থ্রেডসে ৩৯,৯১৬টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। এই সংখ্যা নির্দেশ করে, অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতি এখনো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অব্যাহত রয়েছে।
মেটা এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে একটি ব্লগ পোস্টে উল্লেখ করে, সরকারকে শিল্পের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা প্রস্তাব করে, সমগ্র শিল্পকে নিরাপদ, গোপনীয়তা‑সংরক্ষণকারী এবং বয়স‑অনুকূল অভিজ্ঞতা প্রদান করতে উৎসাহিত করা উচিত, একক নিষেধাজ্ঞার বদলে।
কোম্পানি আরও দাবি করে, বয়স যাচাই প্রক্রিয়া অ্যাপ স্টোরের স্তরে করা হলে নিয়ন্ত্রক ও অ্যাপ ডেভেলপার উভয়ের জন্যই দায়িত্ব কমে যাবে। এই পদ্ধতি অনুসারে, ব্যবহারকারী ডাউনলোডের সময়ই বয়স নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, ফলে প্ল্যাটফর্মগুলোকে আলাদা আলাদা যাচাই ব্যবস্থা চালাতে হবে না।
মেটা এছাড়াও পারিবারিক অনুমোদনের ভিত্তিতে এক্সেম্পশন তৈরি করার প্রস্তাব দেয়। তারা বলে, পিতামাতার অনুমোদন পেলে নির্দিষ্ট বয়সের নিচের শিশুরা নিরাপদে সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার করতে পারবে, যা একক নিষেধাজ্ঞার তুলনায় অধিক নমনীয়তা প্রদান করবে।
এই ধরনের সমন্বিত পদ্ধতি, মেটা যুক্তি দেয়, পুরো শিল্পে একরূপ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং নতুন অ্যাপের উদ্ভবের সঙ্গে সঙ্গে “হোয়াক‑এ‑মোল” সমস্যার সমাধান করবে। ফলে কিশোর-কিশোরীরা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে নতুন প্ল্যাটফর্মে সরে না গিয়ে নিরাপদ পরিবেশে থাকতে পারবে।
অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু দেশই শিশুদের সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার সীমিত করার চেষ্টা করেছে। তবে অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ যা ১৬ বছরের বয়সসীমা বাড়িয়ে কোনো পারিবারিক অনুমোদনের ছাড় দেয়নি, ফলে তার আইনকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, বয়স যাচাই প্রযুক্তি ও গোপনীয়তা সুরক্ষার ক্ষেত্রে আরও উন্নতি প্রয়োজন, তবে একক নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নাও হতে পারে। তারা সমগ্র শিল্পের সমন্বিত নীতি ও প্রযুক্তিগত সমাধানের পক্ষে সুর তুলেছেন।
মেটার এই পদক্ষেপ ও প্রস্তাবনা অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক মিডিয়া নীতির ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সরকার কীভাবে এই প্রস্তাবগুলোকে গ্রহণ করবে এবং অন্যান্য দেশগুলোতে একই রকম নীতি প্রয়োগ হবে কিনা, তা আগামী মাসে স্পষ্ট হবে।



