28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইউগান্ডার প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি সপ্তম মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বী

ইউগান্ডার প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি সপ্তম মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বী

ইউগান্ডার ৮১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট ইয়োওরিরি মুসেভেনি, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পর থেকে একমাত্র শাসক হিসেবে পরিচিত, এখন সপ্তম মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন। ১৯৮৬ সালে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তিনি দেশের শীর্ষে রয়েছেন, এবং তার শাসনকালে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন দেখা গেছে। তবে সমালোচকরা দাবি করেন, তিনি বিরোধী দলকে প্রান্তিক করে এবং স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে ক্ষমতার দখল বজায় রেখেছেন।

মুসেভেনি একবার প্রকাশ্যে বলেছিলেন তিনি প্রেসিডেন্টের মেয়াদ সীমা স্বীকার করেন না, যা তার পাঁচম ত্রৈমাসিক জয়লাভের পরের সময়ে উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে, প্রেসিডেন্টের বয়স সীমা বাতিল করা হয়, যা তাকে আজীবন শাসকের পথে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।

১৯৪৪ সালে অ্যানকলে, পশ্চিম ইউগান্ডার গবাদি পশু পালনের পরিবারে জন্মগ্রহণকারী মুসেভেনি, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বড় হন। তিনি মাইল্টন ওবোটে ও ইডি আমিনের শাসনকালে দেশকে ঘিরে থাকা সহিংসতা ও অস্থিরতা প্রত্যক্ষ করেন, যা তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গঠন করে।

তার জীবনীতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সেই সময়ে অতিরিক্ত বিচারহীন হত্যাকাণ্ড ও লুটপাটের কারণে জন্মতারিখের মতো বিশদ বিষয়ের উপর সময় ব্যয় করা সম্ভব ছিল না। ১৯৬৭ সালে তিনি তানজানিয়ার ডার এস সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন, যেখানে তিনি অঞ্চলীয় ছাত্রদের সঙ্গে রাজনৈতিক সংযোগ গড়ে তোলেন।

১৯৭০-এর দশকে ইডি আমিনের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মুসেভেনি জাতীয় মুক্তি ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠায় অংশ নেন, যা তানজানিয়ার সমর্থনে আমিনের শাসন শেষ করতে সহায়তা করে। আমিনের শাসনকালে প্রায় চার লক্ষ মানুষ নিহত হয় এবং দেশের এশীয় সম্প্রদায়কে বহিষ্কৃত করা হয়।

মুসেভেনি সাম্প্রতিক সময়ে ইডি আমিনকে উপনিবেশিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে, তাকে অজ্ঞ ও স্বৈরাচারী বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি যুক্তি দেন, আমিনের নীতি ও কাজগুলি উপনিবেশিক শাসনের অবশিষ্টাংশের ফল।

মুসেভেনির শাসনকালে ইউগান্ডার জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশের নিচে ৪০ বছর বয়সী তরুণরা কেবল একক প্রেসিডেন্টকে জানে, যা তার দীর্ঘায়ু শাসনের প্রমাণ। তার শাসনকালে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অনেক নাগরিকের প্রশংসা অর্জন করেছে।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, মুসেভেনি বিরোধী দলকে দমন করে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে তার ক্ষমতা সংরক্ষণে কাজ করছেন। বয়স সীমা বাতিলের সিদ্ধান্তকে তিনি নিজের দীর্ঘমেয়াদী শাসনের জন্য একটি আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন।

২০২৪ সালের শেষের দিকে মুসেভেনি সপ্তম মেয়াদের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেন, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন মোড়ে নিয়ে যাবে। তার প্রতিপক্ষদের মধ্যে তরুণ রাজনৈতিক নেতা ও প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত, যারা সীমিত মেয়াদে শাসনকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ফলাফলকে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন। যদি মুসেভেনি পুনরায় নির্বাচিত হন, তবে তার শাসনকালে গৃহীত নীতি ও সংস্কারগুলো আরও দীর্ঘমেয়াদে চালু থাকবে। অন্যদিকে, যদি বিরোধীরা জয়লাভ করে, তবে ইউগান্ডার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনর্গঠন ও সংবিধানিক সংস্কারের সম্ভাবনা বাড়বে।

মুসেভেনির দীর্ঘ শাসনকাল এবং তার বর্তমান ষষ্ঠ ও সপ্তম মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের রাজনৈতিক সংস্কার, মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইউগান্ডার নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করার জন্য তদারকি বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments