সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানের নাম ‘ডেভিল হান্ট’ ব্যবহার করে দুই দফা চালু করার পর মোট ৮০ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল প্রকৃত অপরাধী ও সন্ত্রাসীকে ধরা, তবে গ্রেফতারের অধিকাংশই পেশাদার অপরাধী বা সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত নয়।
অভিযানের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুই দফার গ্রেফতারের সংখ্যা যদিও বিশাল, তবে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে নগণ্য। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, গ্রেফতারের সংখ্যা ও বাস্তব হুমকি (অস্ত্র) এর মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে যে আইনি ক্ষমতা রয়েছে, তা চিকিৎসকের শল্যচিকিৎসার ছুরির মতো সংবেদনশীল। এই ক্ষমতা মূলত জীবন রক্ষা ও সমাজকে হুমকি থেকে রক্ষা করার জন্য, তবে যখন এই ছুরি অতিরিক্ত ব্যবহার হয়ে যায়, তখন তা অপরাধী নয় এমন নাগরিকের ওপর আঘাত হানতে পারে।
গ্রেফতারের তালিকায় দেখা যায়, দিনমজুর, সংবাদপত্র বিক্রেতা, কিশোর এবং এমনকি রাজনৈতিক কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত না থাকা সাধারণ মানুষও অন্তর্ভুক্ত। কিছু ক্ষেত্রে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া গর্ত থেকে সরাসরি টেনে বের করে নেওয়া হয়েছে, যা আইনি প্রমাণের চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইঙ্গিত দেয়।
মানবাধিকার সংস্থা ও অপরাধ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখ করেছে, যখন রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের লক্ষ্যবস্তু অপরাধী থেকে সরিয়ে সাধারণ নাগরিকের দিকে ঘুরে যায়, তখন সমাজে নীরব বিরক্তি সঞ্চিত হয়। এই ধরনের গ্রেফতার প্রক্রিয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
অনেক গ্রেফতারের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই এই অনিচ্ছাকৃত গ্রেফতাকে ভাগ্যের লিখন বলে গ্রহণ করে, যদিও তারা নিজে কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নয়। এই পরিস্থিতি সমাজের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষয় করে।
অভিযামের পরবর্তী পর্যায়ে, গ্রেফতারের অধিকাংশ মামলা আদালতে শোনার জন্য অপেক্ষা করছে। বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় চলমান মামলায় প্রমাণ সংগ্রহ ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে, যা কয়েক মাসের মধ্যে সমাপ্তি পেতে পারে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দাবি করে যে, গ্রেফতারের সময় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, বিশেষ করে যখন গ্রেফতারের পদ্ধতি স্বচ্ছ নয়।
অভিযামের সময় ব্যবহৃত শল্যচিকিৎসার ছুরির মতো আইনি সরঞ্জামকে যদি অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়, তবে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, বিশেষ অভিযানের লক্ষ্য ও বাস্তব ফলাফলকে পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা আসেনি কেন এত বড় সংখ্যক সাধারণ নাগরিককে ‘ডেভিল’ লেবেলে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার উদ্দেশ্য এই অভিযানের পেছনে থাকতে পারে।
অভিযামের ফলে সৃষ্ট উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায়, কিছু মানবাধিকার সংস্থা আদালতে রায়ের পুনর্বিবেচনা ও গ্রেফতারের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য আবেদন করেছে। এই আবেদনগুলো পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে বিচারিক পর্যায়ে শোনার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, ‘ডেভিল হান্ট’ নামে চালু করা বিশেষ অভিযানে বিশাল সংখ্যক গ্রেফতার সত্ত্বেও, বাস্তব হুমকি (অস্ত্র) কম পাওয়া গেছে এবং অধিকাংশ গ্রেফতার সাধারণ নাগরিকের ওপর হয়েছে। এই পরিস্থিতি আইনি ব্যবস্থার ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য গভীর পর্যালোচনা দাবি করে।



