যুক্তরাজ্য সরকার গুয়ান্টানামো বে-তে প্রায় বিশ বছর ধরে কোনো বিচার ছাড়াই আটক থাকা আবু জুবায়দাহকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে। জুবায়দাহের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সিআইএ-র নির্যাতনে সহায়তার অভিযোগে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছিল।
আবু জুবায়দাহ একজন ফিলিস্তিনি, যিনি সৌদি আরবে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর সিআইএ-এর “উন্নত জিজ্ঞাসাবাদ” পদ্ধতির প্রথম শিকার ছিলেন। প্রাথমিকভাবে তাকে আল-কায়দার উচ্চপদস্থ সদস্য বলে দাবি করা হয়েছিল, তবে পরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করে।
সিআইএ-র নির্যাতন পদ্ধতির মধ্যে পানীয় জল থেকে ইলিশের মতো জিনিস সরিয়ে ফেলা, দীর্ঘ সময়ের জন্য আলোর অভাব এবং শারীরিক আঘাত অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০০৬ সাল থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কারাগার গুয়ান্টানামো বে-তে আটক আছেন, কোনো অভিযোগ বা দোষী সাব্যস্ত না হয়ে। তিনি বর্তমানে ১৫ জন বন্দীর মধ্যে একমাত্র, যাঁরা বহু আন্তর্জাতিক রায় এবং সরকারি প্রতিবেদন সত্ত্বেও এখনও সেখানে রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫ এবং এমআই৬ জুবায়দাহের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইএ-কে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেছিল, যদিও তারা তার কঠোর নির্যাতনের ব্যাপারে জানত। এই সহযোগিতা পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দায়িত্বের প্রশ্ন তুলেছে।
জুবায়দাহের আইনগত দল যুক্তরাজ্যের এই সহায়তাকে “সহযোগী” হিসেবে চিহ্নিত করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানায়। দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াইয়ের পর, উভয় পক্ষ একটি আর্থিক সমঝোতায় পৌঁছেছে।
সমঝোতার সুনির্দিষ্ট পরিমাণ গোপনীয়তা রক্ষার জন্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে তা “বৃহৎ” বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে প্রদান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে বর্তমান সময়ে জুবায়দাহ নিজে এই অর্থে প্রবেশ করতে পারছেন না।
জুবায়দাহের আন্তর্জাতিক আইনি পরামর্শক হেলেন ডাফি উল্লেখ করেন, ক্ষতিপূরণ গুরুত্বপূর্ণ এবং উল্লেখযোগ্য হলেও তা অপর্যাপ্ত। তিনি যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সরকারকে জোর দিয়ে আহ্বান করেন, যাতে জুবায়দাহের মুক্তি নিশ্চিত করা যায় এবং তার চলমান নির্যাতন ও অবৈধ আটক বন্ধ হয়।
বৈদেশিক মন্ত্রণালয়, যা এমআই৬ তত্ত্বাবধান করে, গোয়েন্দা বিষয়ক কোনো মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছে। এই অবস্থান সরকারকে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
দোমিনিক গ্রিভ, যিনি জুবায়দাহের মামলায় পার্লামেন্টের অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারmanship করেছেন, সমঝোতাটিকে “অত্যন্ত অস্বাভাবিক” বলে উল্লেখ করেন এবং জুবায়দাহের প্রতি করা আচরণকে স্পষ্টভাবে ভুল বলে চিহ্নিত করেন।
এই ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সহযোগিতার দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে। বিশেষত সিআইএ ও যুক্তরাজ্যের মতো গোপনীয় তথ্য শেয়ারকারী দেশগুলোর ভবিষ্যৎ মামলায় এই ধরনের আর্থিক সমঝোতা একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হতে পারে।
এখনো জুবায়দাহ গুয়ান্টানামো বে-তে “চিরকালের বন্দী” হিসেবে পরিচিত, কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা দোষী সাব্যস্ত না হয়ে। তার অবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে রয়েছে।
এই মামলার ফলাফল অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী গুয়ান্টানামো বন্দীর জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করার পথ প্রশস্ত করতে পারে, এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশের গোয়েন্দা সংস্থার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলতে পারে।



