ট্রাম্প সরকারের সিদ্ধান্তে আগামী দুই দিনে মিনিয়াপলিসে অতিরিক্ত ফেডারেল কর্মী পাঠানো হবে, যেখানে সম্প্রতি একটি আইসিই এজেন্টের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুডের মৃত্যু ঘটেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোমের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আইসিই ও বর্ডার পেট্রল কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
রেনি গুডের গাড়িতে গুলির ঘটনা বুধবার ঘটেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অভিবাসন নীতি বিরোধী প্রতিবাদে রূপ নেয়। ট্রাম্প প্রশাসন এ ঘটনাকে আত্মরক্ষার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করেছে, তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে গুড কোনো হুমকি তৈরি করেনি।
নোম উল্লেখ করেন যে অতিরিক্ত ফেডারেল কর্মীরা আজ ও আগামীকালই পৌঁছাবে এবং যারা তাদের কাজ বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলছেন, আইন প্রয়োগের পথে হস্তক্ষেপ করা অপরাধ এবং এর জন্য শাস্তি দেওয়া হবে।
মিনিয়াপলিসে শনিবারের প্রতিবাদে পাউডারহর্ন পার্ক থেকে শুরু হয়ে ‘আইসিই আউট অফ মিনেসোটা’ শিরোনামে বিশাল সমাবেশ হয়। শহরের পুলিশ অনুমান করে যে এই র্যালি ও মার্চে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছে, যদিও শহরের মেয়র জ্যাকব ফ্রেই এটিকে শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
প্রতিবাদে শুক্রবার ও শনিবারে মোট ৩১ জনের গ্রেফতার হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন, সিয়াটল, নিউ ইয়র্ক ও লস এঞ্জেলেসে আইসিই বিরোধী সমাবেশের খবর পাওয়া যায়, যা দেশের বিভিন্ন অংশে অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র মতবিরোধের ইঙ্গিত দেয়।
মিনেসোটা ইতিমধ্যে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি কঠোর করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নোম সিএনএনের সঙ্গে কথোপকথনে গুডের কাজকে ‘গৃহযুদ্ধের মতো’ হিসেবে উল্লেখ করে, তার গাড়িকে ‘অস্ত্রায়িত’ বলে দাবি করেন।
মিনিয়াপলিসের মেয়র ফ্রেই নোমের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, গুডকে গৃহযুদ্ধের হুমকি হিসেবে দেখা ভুল এবং তিনি গাড়ি চালিয়ে শুধু ত্রিপয়েন্ট টার্ন করার চেষ্টা করছিলেন। ফ্রেই গুডের কাজকে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে না দেখার ওপর জোর দেন।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ফেডারেল কর্মী বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং গুডের ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি পুনরায় শক্তিশালী করার কৌশলের অংশ হতে পারে। ভবিষ্যতে মিনেসোটা ও অন্যান্য রাজ্যে আরও কঠোর আইন প্রয়োগের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এখন থেকে ফেডারেল কর্মীদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করবে। নোমের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করা বা সহিংসতা ঘটানো হলে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেওয়া হবে।
মিনিয়াপলিসের নাগরিক ও প্রতিবাদকারীরা এখনো গুডের মৃত্যুর পরিণতি ও ফেডারেল উপস্থিতির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। কিছু গ্রুপ আইসিই ও বর্ডার পেট্রল কর্মীদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে কিছু গোষ্ঠী আইন প্রয়োগের কঠোরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
সামগ্রিকভাবে, রেনি গুডের গুলির ঘটনা এবং তার পরবর্তী ফেডারেল কর্মী বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও আইন প্রয়োগের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে উন্মোচন করেছে। এই বিষয়গুলো পরবর্তী সপ্তাহে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে এবং সম্ভবত কংগ্রেসে নতুন আইন প্রণয়নের দিকে ধাবিত হবে।



