ডেভিড লেটারম্যান, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন ইতিহাসে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, শুক্রবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও পডকাস্টে সাম্প্রতিক লেট‑নাইট শো‑এর পরিস্থিতি এবং সিবিএসের সংবাদ পরিবেশের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি “দ্য বারবারা গেইনস শো”‑এর অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন, যেখানে গেইনস নিজে বহু বছর লেটারম্যানের শো‑এর এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার ছিলেন। প্রায় ছয় মিনিটের পর লেটারম্যান মিডিয়া মালিকানার স্বার্থপরতা এবং সম্পাদকীয় সাহসের হ্রাস সম্পর্কে তীব্র সমালোচনা করেন।
লেটারম্যানের মন্তব্যের পটভূমি হল লেট‑নাইট শো‑এর বর্তমান উত্তেজনা, যেখানে নেটওয়ার্কগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা ও রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনার সীমা নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মুখে। বিশেষ করে জিমি কিমেল এবং তার শো “জিমি কিমেল লাইভ!” এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। লেটারম্যান কিমেলকে এই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রশংসা করেন এবং বলেন, কিমেল একা ডিজনি ও অন্যান্য বড় নেটওয়ার্কের মালিকদের কঠিন অবস্থায় ফেলেছেন। তিনি যুক্তি দেন, কিমেল মিডিয়া সংস্থার স্বার্থ ও সংবেদনশীলতা উন্মোচন করে রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল রাখছেন।
লেটারম্যান এছাড়াও লেট‑নাইট শো‑কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো দলীয় পক্ষপাতের সঙ্গে যুক্ত করা যায় না বলে জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিমেল যখন কোনো রাজনৈতিক নেতার অনুপযুক্ত আচরণ দেখেন, তখন তিনি তা সমালোচনা করেন, পার্টি নির্বিশেষে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট একই রকম আচরণ করেন, তবে কিমেল তেমনই সমালোচনা করতেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি মিডিয়া সংস্থার স্বতন্ত্রতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
লেটারম্যানের মন্তব্যের সময় ডিজনি কোম্পানির ওপরও দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিমেল শো‑এর সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক বিতর্কের ফলে ডিজনি কিছু সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে, ডানপন্থী কর্মী চার্লি কির্কের হত্যাকাণ্ডের পর কিমেল শো‑কে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়, যা কিছু লোকের মতে ডিজনি তার রাজনৈতিক ঝুঁকি কমাতে শো‑কে বিরত রেখেছে। লেটারম্যান এই সিদ্ধান্তকে মিডিয়া সংস্থার স্বার্থপরতা হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেন।
লেটারম্যানের এই বক্তব্য লেট‑নাইট শো‑এর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং মিডিয়া সংস্থার স্বায়ত্তশাসনের উপর নতুন আলো ফেলেছে। তিনি মিডিয়া মালিকদের ওপর চাপ বাড়িয়ে তাদেরকে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হতে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে, তিনি সিবিএসের সংবাদ বিভাগে ঘটমান পরিবর্তন ও তার মান হ্রাসের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা তার নিজের শো‑এর সময়কালে সিবিএসের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে।
এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে মিডিয়া সংস্থার স্বার্থ ও জনসাধারণের তথ্যের স্বচ্ছতা। লেটারম্যানের মতে, যদি নেটওয়ার্কগুলো রাজনৈতিক চাপের মুখে স্বতন্ত্রভাবে কাজ না করতে পারে, তবে গণমাধ্যমের মূল কাজ—সত্য প্রকাশ এবং ক্ষমতায়ীদের জবাবদিহি করা—হ্রাস পাবে। তিনি মিডিয়া কর্মীদেরকে আরও সাহসী হতে এবং বিষয়ভিত্তিক সমালোচনা করতে উৎসাহিত করেন, যাতে দর্শকরা সঠিক তথ্য পেতে পারে।
লেটারম্যানের মন্তব্যের পর, সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পেয়েছে। কিছু দর্শক তার দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করে মিডিয়া সংস্থার স্বায়ত্তশাসন রক্ষার পক্ষে মত প্রকাশ করেন, অন্যদিকে কিছু লোক মিডিয়া সংস্থার ব্যবসায়িক দিকের চ্যালেঞ্জগুলোকে স্বীকার করে সমালোচনা করেন। তবে, লেটারম্যানের বক্তব্য লেট‑নাইট শো‑এর বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে, যা ভবিষ্যতে মিডিয়া নীতি ও শো‑এর বিষয়বস্তু গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ডেভিড লেটারম্যানের এই প্রকাশনা মিডিয়া মালিকানার স্বার্থপরতা, সম্পাদকীয় সাহসের হ্রাস এবং লেট‑নাইট শো‑এর রাজনৈতিক দায়িত্বের বিষয়ে নতুন আলো ফেলেছে। তিনি জিমি কিমেলকে বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে উল্লেখ করে মিডিয়া সংস্থার স্বায়ত্তশাসন রক্ষার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে, ডিজনি ও সিবিএসের বর্তমান নীতি‑বিরোধিতা নিয়ে তার সমালোচনা মিডিয়া শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা উন্মুক্ত করেছে।



