ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অস্থায়ী প্রধান কোচ ড্যারেন ফ্লেচার আগামীকাল ক্লাবের ক্যারিংটন প্রশিক্ষণভূমিতে রিপোর্ট করার পরই নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন। তিনি সম্প্রতি ব্রাইটনকে ২-১ দিয়ে হারিয়ে এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে বাদ পড়ার পর এই অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন।
ব্রাইটনের বিরুদ্ধে ম্যাচে ইউনাইটেডের দু’গোলের পরেও জয় অর্জন করতে পারেনি, ফলে ১৩ বার এফএ কাপ বিজয়ী দলটি এই মৌসুমে প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে পড়েছে। ফ্লেচার এই পরাজয়কে “দায়িত্বের বড় চ্যালেঞ্জ” বলে উল্লেখ করে, তবে জয় না পেয়ে তিনি গভীরভাবে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ম্যাচের পরে ফ্লেচার ইউনাইটেডের খেলোয়াড়দের অবস্থা “নাজুক” বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, দলকে আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠন করতে হবে এবং খেলোয়াড়দের নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আত্মবিশ্বাসের অভাবকে তিনি ফুটবলে সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ব্রাইটন পরাজয়ের আগে ফ্লেচার দলের দ্বিতীয় ম্যাচে বার্নলিকে ২-২ ড্র দিয়েছিলেন। সেই ম্যাচে তিনি অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যা তার কোচিং অভিজ্ঞতাকে আরও পরীক্ষা করেছে। দুইটি ফলাফলই ইউনাইটেডের বর্তমান অবস্থার কঠিনতা তুলে ধরেছে।
ক্লাবের প্রধান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ওলে গুনার সোলস্কজার এবং মাইকেল ক্যারিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। উভয়ই ইন্টারিম ম্যানেজার হিসেবে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক। ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার কথা জানিয়েছেন।
ফ্লেচার নিজেও এই পদে আগ্রহী হলেও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি আগামীকাল ক্যারিংটনে রিপোর্ট করার পরই সিদ্ধান্তের সূচনা পাবেন, এটাই তিনি জানিয়েছেন। কোনো ইঙ্গিত বা সংকেত না পেয়ে তিনি নিজের অবস্থানকে “অন্ধকারে” বলে বর্ণনা করেছেন।
ফ্লেচার জোর দিয়ে বলেছেন, তার প্রধান মনোযোগ এখন পর্যন্ত বার্নলি ও ব্রাইটন ম্যাচে ছিল। তিনি বলেন, এই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতি ও পরিচালনা তার দায়িত্বের মূল অংশ ছিল। “দায়িত্বের ভরবহন করা বড় চ্যালেঞ্জ, তবে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি” তিনি যোগ করেন।
পরাজয়ের পর তিনি কিছু ইতিবাচক দিকের কথাও উল্লেখ করেছেন, তবে তা মোট ফলাফলে যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিনি স্বীকার করেছেন, “আমি সবাইয়ের চেয়ে বেশি হতাশ” এবং জয় না পেয়ে তার মনোবল কমে গেছে। তবু তিনি দলের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী ছিলেন।
ইউনাইটেডের এফএ কাপ থেকে বেরিয়ে যাওয়া এবং লিগ কাপের প্রথম রাউন্ডে বাদ পড়া ১৯৮১-৮২ সালের পর প্রথমবারের মতো ঘটেছে। ফলে এই মৌসুমে দল মাত্র ৪০টি ম্যাচ খেলবে, যা ১১১ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন সংখ্যা। ফ্লেচার এই পরিসংখ্যানকে “লুকিয়ে রাখা যায় না” বলে উল্লেখ করেছেন।
লিগে ইউনাইটেড বর্তমানে সপ্তম স্থানে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে, যা লিভারপুলের চতুর্থ স্থান থেকে তিন পয়েন্টের পার্থক্য। চতুর্থ স্থান নিশ্চিত হলে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় স্বয়ংক্রিয় যোগ্যতা পাওয়া যায়। ফ্লেচার এই গ্যাপকে দলকে আরও কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখেছেন।
খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসের অবনতি নিয়ে ফ্লেচার সতর্ক করেছেন, তারা এখন নিজেদের উপর নির্ভর করে পরিস্থিতি বদলাতে হবে। তিনি বলছেন, “আত্মবিশ্বাসই ফুটবলের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র, যখন তা হারায় তখন গভীরভাবে ডুব দিতে হয়”। শেষ পর্যন্ত তিনি পুরো সিজনকে নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দলটি শেষ পর্যন্ত সাফল্যের পথে ফিরে আসতে পারে।



