১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জম্মু ও কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক সীমান্ত (IB) ও নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) বরাবর একাধিক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি ড্রোনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়। ড্রোনগুলো সাম্বা, রাজৌরি ও পুঞ্চ জেলায় পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং অন্তত পাঁচটি ড্রোন সীমান্তবর্তী অগ্রবর্তী এলাকায় প্রবেশের রিপোর্ট পাওয়া যায়। নিরাপত্তা সূত্রের মতে, এই ড্রোনগুলো অস্ত্র বা অবৈধ সামগ্রী ড্রপ করার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, ফলে সম্ভাব্য ড্রপ জোনে তল্লাশি অভিযান ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
সাম্বা, রাজৌরি ও পুঞ্চ জেলায় ড্রোনের গতিবিধি লক্ষ্য করা যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট জেলা কর্মকর্তারা তৎক্ষণাৎ সশস্ত্র নিরাপত্তা দলকে মোতায়েন করেন এবং সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে দেন। ড্রোনের সংখ্যা ও গতিপথের বিশদ তথ্য সংগ্রহের পর, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে একটি যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়।
রাজৌরি জেলার নওশেরা সেক্টরের গনিয়া-কালসিয়ান গ্রামের কাছাকাছি সন্ধ্যা ৬:৩৫ টায় একটি ড্রোন নজরে আসে। সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে মাঝারি ও হালকা মেশিনগান দিয়ে গুলি চালায়, তবে ড্রোনটি দ্রুত উচ্চতায় উঠে যায়। একই সময়ে তেরিয়াথ এলাকার খাব্বার গ্রামের নিকটে একটি আলো জ্বলা ড্রোনের মতো বস্তু দেখা যায়, যা কালাকোটের ধর্মশাল গ্রাম দিক থেকে ভরাখের দিকে অগ্রসর হয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়।
সাম্বা জেলায় সন্ধ্যা ৭:১৫ টায় রামগড় সেক্টরের চক বাবরাল গ্রামের উপরে একটি ড্রোন কয়েক মিনিট ধরে ঘোরাফেরা করে দেখা যায়। নিরাপত্তা কর্মীরা ড্রোনের সম্ভাব্য পথ ও উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করে, তবে তাৎক্ষণিক কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ না নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যায়। ড্রোনটি শেষ পর্যন্ত সীমান্তের বাইরে সরে যায় বলে জানানো হয়েছে।
পুঞ্চ জেলার মানকোট সেক্টরে সন্ধ্যা ৬:২৫ টায় তেইন এলাকা থেকে টোপার দিকে LoC বরাবর আরেকটি সন্দেহভাজন ড্রোনের চলাচল রেকর্ড করা হয়। ড্রোনটি সীমান্তের নিকটবর্তী উচ্চতা বজায় রেখে চলতে থাকে এবং কোনো দৃশ্যমান অবজেক্ট ড্রপ করার কোনো চিহ্ন না রেখে অদৃশ্য হয়। নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ড্রোনের সম্ভাব্য ড্রপ জোনে তল্লাশি শুরু করে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্র বা বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
ড্রোন শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয়ে একটি সমন্বিত তল্লাশি অভিযান চালু হয়। অভিযানটি গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে এবং সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকায় সম্ভাব্য অস্ত্র, বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু অনুসন্ধান করা হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, ড্রোনের সম্ভাব্য ড্রপ জোনে কোনো অবৈধ সামগ্রী পাওয়া না গেলে তদনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কয়েক দিন আগে সাম্বা জেলার পালোরা গ্রাম থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল, যা নিরাপত্তা বাহিনীর মতে শুক্রবার রাতে একটি পাকিস্তানি ড্রোনের মাধ্যমে ড্রপ করা হয়েছিল। উদ্ধারকৃত সামগ্রীতে দুটি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, ১৬ রাউন্ড গুলি এবং একটি গ্রেনেড অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র পাচার বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা বৃদ্ধি করে।
সীমান্তে ড্রোন ব্যবহার করে অস্ত্র ও অবৈধ সামগ্রী পাচার বাড়ার প্রবণতা নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, ড্রোনের দ্রুতগতি ও উচ্চ উড়ানের ক্ষমতা সীমান্তে নজরদারি কঠিন করে তুলছে এবং এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্লেষকরা আরও বলেন, ড্রোনের মাধ্যমে সামগ্রী ড্রপ করা কেবল অস্ত্র পাচার নয়, তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা কাজের ক্ষেত্রেও ব্যবহার হতে পারে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
এই ঘটনার আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত উত্তেজনা ইতিমধ্যে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। উভয় দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে সীমান্তে ড্রোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য আলোচনা চালু রয়েছে, তবে বাস্তবিক পদক্ষেপে পার্থক্য দেখা যায়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইঙ্গিত দেন, ড্রোন প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে সমঝোতা ও সংলাপের গুরুত্ব বাড়াবে।
সীমান্তে ড্রোন সনাক্তকরণ ও তল্লাশি অভিযান চলমান থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখবে এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাবে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ধারাবাহিক নজরদারি ও সমন্বিত অপারেশন চালিয়ে যাওয়া হবে, যাতে ড্রোনের মাধ্যমে কোনো অবৈধ সামগ্রী প্রবেশের সম্ভাবনা কমে।



