27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসুদানের সরকার যুদ্ধবন্দি পোর্ট সুদান থেকে খার্তুমে ফিরে আসল

সুদানের সরকার যুদ্ধবন্দি পোর্ট সুদান থেকে খার্তুমে ফিরে আসল

সুদানের সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২৬ সালের রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে খার্তুমে ফিরে এসেছে, যেখানে তিন বছর ধরে পূর্বের বন্দর শহর পোর্ট সুদানে কাজ করছিল। সরকারী দপ্তর পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে এবং শীঘ্রই শহরের মৌলিক সেবা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা চালু হবে।

২০২৩ সালে সামরিক বাহিনী ও পারামিলিটারি র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) এর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই তীব্র হয়ে ওঠে, ফলে দেশব্যাপী গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। উভয় পক্ষই একে অপরকে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের জন্য দায়ী করে, যা দেশের রাজনৈতিক ও মানবিক পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলেছে।

যুদ্ধের প্রথম বছরগুলোতে সরকার পোর্ট সুদানে সরিয়ে নেয়, যেখানে সামরিক কমান্ড ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যায়। এই সময়ে রাজধানী খার্তুমের বেশিরভাগ সরকারি সংস্থা ও কর্মী নিরাপত্তার উদ্বেগে শহর ত্যাগ করে, ফলে রাজধানী শূন্য হয়ে যায়।

মার্চ ২০২৪-এ সামরিক বাহিনী এক বড় সাফল্য অর্জন করে, খার্তুম পুনরায় দখল করে এবং শহরের কিছু অংশে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। এই বিজয়কে কেন্দ্র করে সরকারী দলিলগুলোতে ‘আশার সরকার’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়, যা জনগণের মধ্যে পুনরুজ্জীবনের আশা জাগায়।

সংযুক্ত জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শীর্ষে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন মানুষ খার্তুম ত্যাগ করে অন্য অঞ্চলে শরণার্থী হিসেবে বসতি স্থাপন করে। শহরে থাকা অবশিষ্ট বাসিন্দারা র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের দখলে কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, যেখানে ব্যাপক লুটপাট ও বেসামরিক বাড়িতে সৈন্যদের দখল করা রিপোর্ট করা হয়েছে।

শহরের অবকাঠামো ব্যাপক ধ্বংসের মুখে পড়ে। অক্টোবর মাসে ইউএন কর্মকর্তার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিদ্যুৎ, পানির সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল, এবং মৌলিক সেবা মাত্রা বজায় রাখতে সংগ্রাম করছিল।

খার্তুমে ফিরে আসার পর সরকার অবিলম্বে বিদ্যুৎ, পানির সরবরাহ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করার ঘোষণা দেয়। এই পদক্ষেপগুলোকে শহরের বেঁচে থাকা বাসিন্দাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, ২০২৬ সালকে ‘শান্তির বছর’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যদিও যুদ্ধের শুরুর পর থেকে প্রায় ১.৫ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই মৃত্যুর সংখ্যা আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে এবং শান্তি প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

সংযুক্ত জাতিসংঘের মতে, বর্তমান মানবিক সংকটকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে প্রায় বারো মিলিয়ন মানুষ তাদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। শরণার্থীদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, এবং উভয় পক্ষই বহিরাগত শক্তির সমর্থন পেয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সকে সমর্থন করার অভিযোগে সমালোচনা করা হয়েছে, যদিও দায়িত্ব অস্বীকার করা হয়েছে।

র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের দৃষ্টিকোণ থেকে তারা নিজেদেরকে দেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারী হিসেবে উপস্থাপন করে, এবং সরকারকে তাদের কার্যক্রমের বাধা হিসেবে দেখায়। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো উভয় পক্ষের অপরাধের অভিযোগে সমানভাবে সমালোচনা করেছে।

ভবিষ্যতে সরকারী পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক সহায়তার সমন্বয়ে সুদানের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পুনর্গঠনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। শাসন কাঠামোর স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা দেশের পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments