বায়ার্ন মিউনিখ শীতকালীন বিরতির পর প্রথম ম্যাচে ভলফসবার্গকে ৮-১ স্কোরে পরাজিত করে বুন্দেসলিগার শীর্ষে ১১ পয়েন্টের বাড়তি সুবিধা অর্জন করেছে। এই জয়টি দলকে ৪৪ পয়েন্টে স্থাপন করেছে, আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডর্টমুন্ডের থেকে একই সংখ্যক পয়েন্টের পার্থক্য বজায় রেখেছে।
বায়ার্নের এই জয়টি শীতকালীন বিরতির পর প্রথম গেম, যেখানে দলটি শূন্য থেকে শুরু করে দ্রুতই গেমের গতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। প্রথম পাঁচ মিনিটে লুইস দিয়াজের কাটব্যাক থেকে কিলিয়ান ফিশারের নিজের গোলের ফলে শুরুরই সুবিধা পায় বায়ার্ন। এটি ভলফসবার্গের তৃতীয় ধারাবাহিক লিগ ম্যাচে নিজের গোলের রেকর্ড, যা এখন পর্যন্ত লিগের নতুন রেকর্ড হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে।
ভলফসবার্গের ডজেনান পেজিনোভিচ ১৩তম মিনিটে একটি চমৎকার পাসের পর গোল করে সমতা ফিরিয়ে আনে। তবে বায়ার্নের আক্রমণাত্মক চাপ অব্যাহত থাকে, এবং অর্ধ ঘন্টার কাছাকাছি লুইস দিয়াজ অলিসের ক্রসের উপর হেডার করে নিজের নয়ম লিগ গোলটি সম্পন্ন করে, যা দলের স্কোরকে আবার একধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়।
মাইকেল অলিস, যিনি এখন পর্যন্ত লিগের সেরা সহায়ক হিসেবে নয়টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড ধরে রেখেছেন, একই ম্যাচে নিজের আটম গোলও করেন। তার বক্রাকার শটটি গলপোস্টের ঠিক পাশে গিয়ে নেটের ভিতরে গিয়ে স্কোরবোর্ডে যোগ হয়। অলিসের এই গোলটি ভলফসবার্গের তৃতীয় ধারাবাহিক ম্যাচে নিজের গোলের পরম্পরা চালিয়ে যায়, যেখানে মরিটজ জেনজ অলিসের কাটব্যাক থেকে নিজের গোল করে দলের পয়েন্টে আরও ক্ষতি করে।
বায়ার্নের আক্রমণাত্মক তীব্রতা অব্যাহত থাকে, অলিসের শট পোস্টে আঘাত হানলেও তা স্কোরে রূপান্তরিত হয় না। তবে পরিবর্তনশীল রাফায়েল গেরেইরো এবং হ্যারি কেনের দ্রুত দুইটি গোল, মাত্র ৮০ সেকেন্ডের মধ্যে, স্কোরকে ৭-১ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। গেরেইরোর গোলটি ডানফ্ল্যাঙ্ক থেকে আক্রমণাত্মক চালের ফল, আর কেনের গোলটি তার নিখুঁত ফিনিশের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
বায়ার্নের ঘরে ভলফসবার্গের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক রেকর্ডও উল্লেখযোগ্য। বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন কখনোই ঘরে হেরেছে না; ২৯টি ম্যাচে ২৭টি জয় এবং ২টি ড্র রয়েছে। এই ধারাবাহিক জয় বায়ার্নের ঘরে শক্তি এবং আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে।
ম্যাচের শেষের দিকে অলিসের দ্বিতীয় গোল ৭৬তম মিনিটে আসে, যেখানে তিনি আবারও গোলের জালে বল পাঠান। শেষের দিকে লিয়ন গোরেটজ্কা পরিবর্তনশীল হয়ে টাইট অ্যাঙ্গেল থেকে বলকে ফ্লিক করে, যা বায়ার্নের সর্ববৃহৎ জয় হিসেবে রেকর্ড হয়। গোরেটজ্কার এই গোলটি দলের আক্রমণাত্মক ধারাকে সম্পূর্ণ করে, এবং শেষ স্কোর ৮-১ নিশ্চিত করে।
একই সপ্তাহে ইতালির সিরি এ-তে এসি মিলান ফিয়োরেন্টিনার বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে, যেখানে ক্রিস্টোফার নকুঙ্কু ৯০তম মিনিটে সমতা গোল করেন। যদিও মিলান অবিচলিত অজয় শৃঙ্খল বজায় রাখে, তবে এই ড্র তাদের শিরোপা দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে দেয়।
বায়ার্নের পরবর্তী ম্যাচে তারা ডর্টমুন্ডের মুখোমুখি হবে, যেখানে শিরোপা শিরোনামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ থাকবে। ভলফসবার্গের পরবর্তী গেমে তারা বায়ার্নের কঠোর আক্রমণাত্মক শৈলীর মুখোমুখি হবে, যা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
বায়ার্নের এই বিশাল জয় এবং অলিসের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দলকে শীতের পরের মৌসুমে শক্তিশালী অবস্থানে রাখে, আর লিগের শীর্ষে তাদের আধিপত্য বজায় রাখার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।



