ব্রাইটন ও হ্যাভারিয়াল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এফএ কাপ তৃতীয় রাউন্ডে, ব্রাইটন ২-১ গোলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে পরাজিত করে টুর্নামেন্ট থেকে বেরিয়ে যায়। ম্যাচের প্রথমার্ধে ব্রাজান গ্রুদা গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়, আর দ্বিতীয়ার্ধে ড্যানি ওয়েলবেকের শট স্কোরবোর্ডে যুক্ত হয়।
ব্রাইটনের সমান সুযোগে, ইউনাইটেডের বেনজামিন সেস্কো ৮৫তম মিনিটে হেডার দিয়ে সমতা রক্ষা করার চেষ্টা করে, তবে গোলের লাইন পার হতে না পেরে শটটি মিস হয়। গেমের শেষের দিকে, অতিরিক্ত সময়ে ১৮ বছর বয়সী শিয়া লেসি দ্বিতীয় হলুদ পায় এবং রেফারি সাইমন হুপার তাকে ডিসেন্টের জন্য লাল কার্ড দেখান। লেসি ম্যাচের পর মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় চোখে অশ্রু নিয়ে দেখা যায়, যা দলের বর্তমান অবস্থা ও মানসিক চাপের প্রতিফলন।
দারেন ফ্লেচার, যিনি রুবেন আমোরিমের পদত্যাগের পর ইন্টারিম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, লেসির রেড কার্ডের পর রেফারির কাছে অভিযোগ করার সময় নিজেও হলুদ কার্ড পান। ফ্লেচারের এই দুই ম্যাচে কোনো জয় না পাওয়া রেকর্ড অব্যাহত থাকে, যা তার অবস্থানকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
ইউনাইটেডের এই পরাজয়টি ক্লাবের জন্য একাধিক দিক থেকে মর্মান্তিক। এফএ কাপের পাশাপাশি, তারা কারাবাও কাপেও গ্রিমসবিতে পেনাল্টি শ্যুটআউটে বাদ পড়ে, যা ১৯৮১-৮২ সালের পর প্রথমবারের মতো দুইটি প্রধান কাপেই প্রারম্ভিক পর্যায়ে বেরিয়ে যায়। সিজনের শেষ পর্যন্ত মোট ৪০টি ম্যাচ খেলা হবে, যা ১৯১৪-১৫ সালের পর সর্বনিম্ন সংখ্যা।
ব্রাইটনের জয়টি ইউনাইটেডের প্রিমিয়ার লিগের পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত। বুধবারের বার্নলিতে ড্রের পর, এই ম্যাচে ইউনাইটেডের আক্রমণাত্মক দুর্বলতা আবার প্রকাশ পায়, যা ফ্লেচারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ক্লাবের অভ্যন্তরে এখন দ্বিতীয় ইন্টারিম ম্যানেজার নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে; ওলে গুনার সোলস্কার এবং মাইকেল ক্যারিককে সম্ভাব্য প্রার্থীরূপে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ফ্লেচার তার দায়িত্বের সময়কালে দুইটি ম্যাচে কোনো জয় না পেয়ে মন্তব্য করেন যে, তাকে এই কাজটি করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে এবং তিনি অন্য কোনো আলোচনা করেননি। এখন ক্লাবের নতুন নেতৃত্বের দায়িত্বে শুধুমাত্র চ্যাম্পিয়নস লিগের যোগ্যতা নিশ্চিত করা বাকি, কারণ ইউনাইটেড বর্তমানে পয়েন্টে সপ্তম স্থানে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে, যা লিভারপুলের চতুর্থ স্থান থেকে তিন পয়েন্টের পার্থক্য।
পরবর্তী সপ্তাহে ইউনাইটেডের লিগে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আসছে, যেখানে তারা পয়েন্ট বাড়িয়ে ইউরোপীয় যোগ্যতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইন্টারিম ম্যানেজারের পরিবর্তন ক্লাবের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও মাঠের পারফরম্যান্সে কী প্রভাব ফেলবে, তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে।



