ডাম্বুলার আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রবিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়ী টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ১২ ওভারে ১৬০ রান তৈরি করে পাকিস্তানের ১৪৬ রানে শেষ হওয়া প্রচেষ্টাকে থামিয়ে ১৪ রানে জয়লাভ করে। বৃষ্টির কারণে দেরিতে শুরু হওয়া খেলায় প্রথমে টস হারা শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দ্রুত স্কোরের ভিত্তি গড়ে তোলে।
প্রথম ওভারে ওপেনার পাথুম নিসান্কা শীঘ্রই আউট হন, আর তার সঙ্গী কামিল মিশারা ২০ রান করে ৮ ball-এ শেষ হন। এরপর ধানাঞ্জায়া ডি সিলভা ২২ রান (১৫ ball) এবং কুসাল মেন্ডিস ৩০ রান (৯ ball) যোগ করেন, যেখানে মেন্ডিসের শুরুর ৯ রান পরে দুইটি চৌরাসি ও এক ছক্কা দিয়ে স্কোর বাড়িয়ে দেন।
প্রাক্তন অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা ২১ রান (১৩ ball) যোগ করার পর ক্যাপ্টেন দাসুন শানাকা এবং মিডল-অর্ডার জ্যানিথ লিয়ানাগে একসাথে ৫২ রান (১৫ ball) গড়ে শ্রীলঙ্কার স্কোরকে দেড়শের উপরে নিয়ে যায়। শানাকা ৩৪ রান (৬ ball) করেন, যার মধ্যে পাঁচটি চৌরাসি ও নয়টি ছক্কা রয়েছে, আর লিয়ানাগে ২২ রান (৮ ball) করে শেষ পর্যন্ত অক্ষত থাকেন।
স্পিনিং অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ৪ উইকেট (৩৫ রান) নিয়ে শ্রীলঙ্কার পঞ্চম ওভারে পাকিস্তানের প্রথম ব্যাটসম্যানকে আউট করেন এবং ম্যাচের ম্যান অব দা ম্যাচের উপযুক্ত প্রমাণ দেন। শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কা অতিরিক্ত ২৪ রান যোগ করে, শেষ ছয় ওভারে মোট ৯৮ রান তৈরি করে লক্ষ্যকে দৃঢ় করে।
পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে প্রথম উইকেট দ্রুতই নষ্ট হয়, এবং সাইম আইয়ুব ও সালমান আলি আগা ৫১ রান (১৪ ball) জোড়া গড়ে দলকে অগ্রগতি দেয়। সালমান আলি আগা ৪৫ রান (১২ ball) করেন, যার মধ্যে পাঁচটি চৌরাসি ও তিনটি ছক্কা রয়েছে। তবে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা পঞ্চম ওভারে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেয়, যা পাকিস্তানের গতি কমিয়ে দেয়।
পাকিস্তান ৬০ রান থেকে দ্রুত ৬৭ রান পর্যন্ত পৌঁছায়, তবে পরবর্তী পর্যায়ে মোহাম্মদ নাওয়াজ ও অভিষিক্ত নাফে ৪৯ রান (২৬ রান) জোড়া গড়ে স্কোরকে স্থিতিশীল রাখে। শেষ ১৮ ball-এ দলকে ৪৫ রান দরকার, কিন্তু দশম ওভারের প্রথম ball-এ নাফে (১৫ বলে ২৬) আউট হয়ে যায়, ফলে হাসারাঙ্গার শেষ আঘাতের মাধ্যমে পার্টনারশিপ ভেঙে যায়।
অবশেষে পাকিস্তান ১৪৬ রান করে, শ্রীলঙ্কার ১৪ রানে জয় নিশ্চিত হয়। এই জয় শ্রীলঙ্কার জন্য ১৩ বছরের বেশি সময়ের পর ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি জয়ের শেষের সূচনা করে। শেষবার শ্রীলঙ্কা ঘরে টি-টোয়েন্টি জিতেছিল ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে কলম্বোতে ১৬ রান পার্থক্যে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান জয়ী হয়, দ্বিতীয়টি বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়, আর তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কা জয়ী হয়ে সিরিজকে সমতায় শেষ করে। এই ফলাফল দুই দলের মধ্যে ত্রয়ী সিরিজের সমতা বজায় রাখে, তবে শ্রীলঙ্কার জন্য ঘরে দীর্ঘ সময়ের পর প্রথম জয় হওয়ায় তা বিশেষ গুরুত্ব পায়।
শ্রীলঙ্কার ক্যাপ্টেন শানাকা ও স্পিনার হাসারাঙ্গা উভয়ই ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেয়েছেন, যা দলের জয়কে আরও দৃঢ় করে। দলটি ভবিষ্যৎ সিরিজে এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাবে, আর পরবর্তী টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার সূচি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।



