ঢাকার ডিআরইউ মিলনায়তে রবিবার বিকেলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাধীন প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের ১ % ভোটার স্বাক্ষর সংযুক্তি বিধানকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরে, এবং এই বিধান বাতিলের দাবি জানায়।
প্রায় ত্রিশজন স্বতন্ত্র প্রার্থী, যাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের মুখে পড়েছে, তারা একত্রে উপস্থিত হয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছে। আপিল পর্যায়ে দেখা গেছে, অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ১ % ভোটার স্বাক্ষরের ঘাটতি বা গরমিলের ভিত্তিতে বাতিল করা হয়েছে, আর কিছু প্রার্থীর শোনানি এখনো বাকি।
সভা পরিচালনা করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ‑৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনাত কাইয়ূম। তিনি উল্লেখ করেন, “নির্বাচন গোপন ব্যালটে হয়, তবু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ % ভোটারের নাম, ঠিকানা ও স্বাক্ষর প্রকাশ্যে দিতে হচ্ছে, যা ভোটার গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে।”
হাসনাত কাইয়ূমের মতে, রিটার্নিং কর্মকর্তারা দৈবচয়ন পদ্ধতিতে স্বাক্ষর যাচাই করেন। যদি কোনো স্বাক্ষরদাতা ভয় বা চাপের কারণে স্বাক্ষর না দিতে পারে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তিনি আরও জানান, তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা বাধা দিতে পুলিশ এক স্বাক্ষরকারীর বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়েছে।
কাইয়ূম অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, “জুলাই মাসে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গণ‑অভ্যুত্থান ঘটেছিল। নির্বাচন কমিশনের সংস্কার না হলে অন্য কোনো সংস্কারের অর্থ নেই। শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল এমন একটি নির্বাচনের জন্য, যা এখন ইসি আরও খারাপভাবে পরিচালনা করছে।”
সভায় বাংলাদেশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমও উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরপরই ১ % ভোটার স্বাক্ষর বিধান বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ভোটার গোপনীয়তা রক্ষা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
সভায় উপস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা উল্লেখ করেন, বিধানটি কেবল তাদের জন্যই নয়, স্বাক্ষরদাতাদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। স্বাক্ষর প্রকাশের ফলে হুমকি, চাপ বা শারীরিক হিংসার সম্ভাবনা বাড়ে, যা ভোটার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা উভয়ই ক্ষুণ্ন করে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পূর্বে কমিশন জানিয়েছে, স্বাক্ষর যাচাইয়ের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তারা দৈবচয়ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন এবং কোনো স্বাক্ষরদাতা স্বেচ্ছায় না দিতে পারলে তা বাতিলের কারণ হতে পারে।
হাসনাত কাইয়ূমের আপিলের শোনানি সোমবার নির্ধারিত হয়েছে। শোনানির ফলাফল স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মতে, যদি ১ % স্বাক্ষর বিধান বজায় থাকে, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নে বাধা সৃষ্টি হবে এবং ভোটারদের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হবে। তারা দাবি করেন, এই বিধানটি বাতিল করা অথবা কম কঠোর কোনো বিকল্প প্রণয়ন করা উচিত।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের কিছু সদস্যের মতে, স্বাক্ষর সংযুক্তি প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয়। তবে তারা স্বীকার করেন, স্বাক্ষরদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা একত্রে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন, যেখানে ১ % ভোটার স্বাক্ষর বিধান বাতিলের পাশাপাশি স্বাক্ষরদাতাদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা ও আইনসভার সমীক্ষা প্রত্যাশিত।



