বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো কোথায় অনুষ্ঠিত হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) দুজনের মধ্যে ভেন্যু নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলমান, এবং চেন্নাই ও থিরুভানন্তপুরমকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে উল্লিখিত করা হয়েছে।
এই বিতর্কের মূল কারণ হল দু’পক্ষের পারস্পরিক চাহিদা ও শর্তাবলীর পার্থক্য, যা এখনো সমাধান হয়নি। উভয় সংস্থা একে অপরের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনায় লিপ্ত, এবং এই প্রক্রিয়াকে কখনও কখনও ‘আট্রিশন যুদ্ধ’ বলা হয়েছে।
বিশ্বকাপের শুরুর তারিখের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে এই বিষয়টি এখনও অনির্ধারিত, ফলে সময়ের চাপ বাড়ছে। টুর্নামেন্টের সূচি নির্ধারিত হওয়ায় ভেন্যু পরিবর্তন হলে পুরো সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে।
চেন্নাইয়ের চেপাক স্টেডিয়াম ইতিমধ্যে টুর্নামেন্টের জন্য সাতটি ম্যাচের হোস্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত। এই স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা ও বড় দর্শক ধারণক্ষমতা নিয়ে পরিচিত, যা বাংলাদেশ দলের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।
থিরুভানন্তপুরমের স্টেডিয়ামও বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দক্ষিণ ভারতের এই শহরটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইভেন্টের আয়োজক হয়েছে, ফলে তার অবকাঠামো টুর্নামেন্টের চাহিদা পূরণে সক্ষম।
উভয় ভেন্যুই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানদণ্ডে নির্মিত, এবং পূর্বে ICC এর আয়োজিত বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ব্যবহার হয়েছে। তাই ভেন্যু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো বড় প্রযুক্তিগত বাধা দেখা দেয় না।
বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য ভেন্যু নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভ্রমণ সময়, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং মাঠের শর্তাবলী সরাসরি পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। চেন্নাই ও থিরুভানন্তপুরমের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের প্রস্তুতি পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ICC ইতিমধ্যে অন্যান্য দলগুলোর জন্য নির্ধারিত ম্যাচের সময়সূচি প্রকাশ করেছে, এবং কোনো নতুন ভেন্যু যুক্ত হলে সেই সূচিতে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় লজিস্টিক্স, টিকিট বিক্রয় এবং মিডিয়া কভারেজের বিষয়গুলোও বিবেচনা করা হয়।
BCB তার দলের জন্য সর্বোত্তম শর্ত নিশ্চিত করতে চায়, এবং তাই ভেন্যু নির্বাচনে নিরাপত্তা, মাঠের গতি এবং আবহাওয়ার প্রভাবকে গুরুত্ব দিচ্ছে। উভয় সম্ভাব্য ভেন্যুই এই দিক থেকে উপযুক্ত বলে বিবেচিত।
আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে উভয় সংস্থা কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ করেনি, তবে সূত্র অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শীঘ্রই নেওয়া হবে। সিদ্ধান্তের পরই বাংলাদেশ দলকে নির্দিষ্ট ভেন্যুতে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির জন্য সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে।
এই মুহূর্তে চেন্নাই ও থিরুভানন্তপুরমের মধ্যে কোনটি চূড়ান্ত হবে তা অনিশ্চিত, তবে উভয়ই টুর্নামেন্টের মূল ভেন্যু তালিকায় রয়েছে। ভেন্যু চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দল ও ভক্ত উভয়ের জন্যই স্পষ্টতা আসবে।
বিশ্বকাপের শুরুর দিনগুলো নিকটবর্তী হওয়ায় ভেন্যু সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দ্রুত সমাধান হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে দল তার কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পূর্ণভাবে চালিয়ে যেতে পারে।



