প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, গ্র্যামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারধারী, মার্চ মাসে জাপান সফরের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এই তথ্য ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিকাল ২১:৩৪ টায় প্রকাশিত হয়। সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ও ভ্রমণসূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে তিনি মার্চের মধ্যে জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রফেসর ইউনূসের এই ভ্রমণ বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। উভয় দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং সামাজিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে গ্র্যামীন ব্যাংকের মডেলকে জাপানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে গ্রহণ করবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর কাড়া বিষয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও কর্মশালার সঙ্গে প্রফেসর ইউনূসের সফর সমন্বিত হতে পারে। জাপানের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে তিনি তার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করার সুযোগ পাবেন। এই ধরনের বিনিময় উভয় দেশের যুব উদ্যোক্তা ও সামাজিক ব্যবসায়িক উদ্যোগের বিকাশে সহায়ক হতে পারে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সফরের প্রস্তুতিতে জড়িত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রফেসর ইউনূসের সফর দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিকল্পিত। জাপানি দিক থেকে উচ্চ পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে, যদিও বৈঠকের বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশিত হয়নি।
প্রফেসর ইউনূসের পূর্বে জাপানে বেশ কয়েকবার সফর করেছেন, যেখানে তিনি গ্র্যামীন ব্যাংকের মডেল নিয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেছেন। তার এই অভিজ্ঞতা জাপানি নীতি-নির্ধারকদের কাছে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন কৌশল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করেছে। এইবারের সফরে তিনি নতুন সহযোগিতা ক্ষেত্র অনুসন্ধান করতে পারেন, যেমন টেকসই উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবা।
অঞ্চলীয় বিশ্লেষকরা জোর দিয়ে বলছেন, জাপান ও বাংলাদেশ উভয়েরই দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। জাপান এই অঞ্চলে অবকাঠামো প্রকল্প ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, আর বাংলাদেশ তার দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতির মাধ্যমে জাপানের বাজারে প্রবেশের নতুন দরজা খুলে দিচ্ছে। প্রফেসর ইউনূসের সফর এই কৌশলগত সংযোগকে আরও দৃঢ় করতে পারে।
সফরের সময় প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে জাপানি মিডিয়া সংস্থাগুলোর সাক্ষাৎকারের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন, মাইক্রোফাইন্যান্স এবং সামাজিক উদ্যোক্তা উদ্যোগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য করতে পারেন। এই ধরনের প্রকাশনা উভয় দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়ক হবে।
প্রফেসর ইউনূসের অফিস থেকে জানানো হয়েছে, সফরের প্রস্তুতি চলমান এবং তিনি জাপান ভ্রমণের আগে দেশের বিভিন্ন অংশে পরামর্শমূলক সেশন পরিচালনা করবেন। এই সেশনগুলোতে তিনি স্থানীয় উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ এবং নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ফলে, সফরের ফলাফল দেশের নীতি-নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্চে নির্ধারিত সফরটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সামাজিক উদ্ভাবনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রফেসর ইউনূসের উপস্থিতি জাপানীয় গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের সুযোগ দেবে, যা ভবিষ্যতে যৌথ প্রকল্পের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।
সফরের শেষ পর্যায়ে প্রফেসর ইউনূসের জাপান থেকে ফিরে আসার পর একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সফরের মূল ফলাফল, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা পরিকল্পনা এবং উভয় দেশের মধ্যে নতুন উদ্যোগের রূপরেখা থাকবে। এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মার্চে প্রফেসর ইউনূসের জাপান সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচনের সম্ভাবনা রাখে। যদিও সফরের নির্দিষ্ট এজেন্ডা এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে বিশ্লেষক ও নীতি-নির্ধারকরা এটিকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও সামাজিক উদ্ভাবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হিসেবে দেখছেন।



