বাংলাদেশের দ্রুতগতি পেসার টাসকিন আহমেদ সাম্প্রতিক BPL ম্যাচে হাঁটু সমস্যার কারণে মাঠে নামতে পারেননি। তিনি ঢাকা ক্যাপিটালসের নোয়াখালি এক্সপ্রেসের বিপক্ষে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ গেমে অনুপস্থিত ছিলেন। এই অনুপস্থিতি দলকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে, কারণ টাসকিনের অভাব দলের আক্রমণাত্মক বিকল্পকে সীমিত করেছে।
টাসকিন এখন পর্যন্ত ঢাকা ক্যাপিটালসের সাতটি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে গত গেমে তার অনুপস্থিতি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গিয়েছে, যেখানে তিনি দলের খেলোয়াড় তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন। তার ঘাটতি দলের ব্যাটিং ও ফিল্ডিং পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে, বিশেষ করে শেষ ওভারগুলোতে গতি বজায় রাখতে।
ম্যাচের পরের প্রেস কনফারেন্সে ঢাকা ক্যাপিটালসের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মিথুন টাসকিনের অবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, টাসকিনের হাঁটুতে ব্যথা অনুভবের ফলে তিনি ঢাকা শহরে স্ক্যানের জন্য গিয়েছেন এবং বর্তমানে খেলতে অক্ষম। মিথুনের মতে, যদি স্ক্যানের ফলাফল অনুকূল হয় এবং আঘাত গুরুতর না হয়, তবে ঢাকা পর্যায়ে টাসকিনের ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফিজিওনাটিক্স বিশেষজ্ঞ বায়েজেদুল ইসলাম বায়েজিদ একই সময়ে টাসকিনের আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, টাসকিনের হাঁটুতে কোনো বড় সমস্যা নেই, তবে সতর্কতার জন্য তিনি ঢাকা গিয়ে পূর্ণ পরীক্ষা করিয়ে নিয়েছেন। বায়েজিদ অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত টাসকিনের হাঁটু সমস্যার ওপর কাজ করা হয়েছে, তাই বর্তমান স্ক্যানটি পূর্বের চিকিৎসা পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা।
বিপিএল মৌসুমে টাসকিনের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার চেয়ে কম রয়ে গেছে। পাঁচটি ম্যাচে তিনি মাত্র তিনটি উইকেটই নিতে পেরেছেন, এবং তার ইকোনমি রেট ৯.৭৭ রান প্রতি ওভার। এই পরিসংখ্যান তার সাম্প্রতিক ফর্মের অবনতি নির্দেশ করে, যা দলের সামগ্রিক ব্যালেন্সে প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দৃষ্টিকোণ থেকে টাসকিনের অবস্থা বিশেষ গুরুত্বের। ICC টি২০ বিশ্বকাপ ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে চলেছে, এবং টাসকিন বাংলাদেশের পেসার আক্রমণের মূল অংশ। তবে তার বর্তমান আঘাতের অবস্থা এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া বিশ্বকাপের আগে তার অংশগ্রহণকে অনিশ্চিত করে রেখেছে।
ঢাকা ক্যাপিটালসের বর্তমান BPL ক্যাম্পেইন কঠিন পর্যায়ে রয়েছে। সাতটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুইটি জয় অর্জন করতে পেরেছে, ফলে দলটি নকআউট পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কমে গেছে। টাসকিনের অনুপস্থিতি দলের আক্রমণাত্মক বিকল্পকে সংকুচিত করেছে, যা পরবর্তী ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিপিএল-এর ঢাকা পর্যায় ১৫ জানুয়ারি শুরু হবে, যা সিলেট পর্যায়ের সমাপ্তি ১৩ জানুয়ারি পরপর। এই সময়সূচি টাসকিনের পুনরুদ্ধার এবং স্ক্যানের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল, যাতে তিনি ঢাকা পর্যায়ে ফিরে এসে দলের জন্য অবদান রাখতে পারেন।
সারসংক্ষেপে, টাসকিনের হাঁটু সমস্যার কারণে তার BPL অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, এবং তার ফিটনেসই নির্ধারণ করবে তিনি বিশ্বকাপের আগে আবার মাঠে নামবেন কিনা। দলটি বর্তমানে কঠিন অবস্থায়, এবং টাসকিনের ফিরে আসা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন হতে পারে।



