ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় ৩০ বছর বয়সী মো. শাকিল (শাকিল) ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ৬০০ টাকার ঋণ নিয়ে বিরোধে পিটিয়ে মারা যাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। শাকিলের মৃত্যু ঘটেছে ঢাকা আগারগাঁও নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জানুয়ারি সকালেই নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিরোধের সূত্রপাত হয় দক্ষিণ আড়ালিয়া গ্রামে, যেখানে মো. নুরনবীরের ছেলে মো. তামিম হোসেনের ওপর শাকিলের বড় ভাই রাকিবের ৬০০ টাকা পাওনা ছিল। তামিম ও রাকিবের মধ্যে কথাবার্তা বাড়ে, ফলে রাকিব শাকিলকে তামিমের ওপর চড়-থাপ্পড় দিয়ে হস্তক্ষেপ করেন।
শাকিলের হস্তক্ষেপের পর তামিম পেছন থেকে এসে ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে শাকিলের মাথায় আঘাত করেন। আঘাতের ফলে শাকিল মাটিতে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন এবং তৎক্ষণাৎ স্থানীয়দের দ্বারা তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রাথমিক চিকিৎসা সত্ত্বেও শাকিলের অবস্থার অবনতি ঘটে, ফলে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আরও চিকিৎসার পর তাকে বারিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে পাঠানো হয়, যেখানে অবস্থা আরও খারাপ হয়।
অবশেষে শাকিলকে ঢাকা আগারগাঁও নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য। তবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ১১ জানুয়ারি সকালেই তার মৃত্যু ঘটে।
শাকিলের চাচা সিরাজ মিস্ত্রী জানান, ঘটনার পরপরই শাকিলকে তজুমদ্দিন, ভোলা ও বারিশাল হয়ে ঢাকা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়, তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তজুমদ্দিন থানার ওয়ানডি অফিসার মো. আবদুস সালাম জানান, ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পুলিশ উপস্থিত হয় এবং তদন্ত শুরু করে। শাকিলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার বাবা মো. ইউনুস মামলাটি দায়ের করেন এবং তামিম হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ বর্তমানে তামিম হোসেনকে গ্রেপ্তার করার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং অভিযুক্তের সন্ধানে অভিযান চালু রয়েছে। মামলাটি স্থানীয় থানা থেকে রেজিস্টার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
শাকিল তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ আড়ালিয়া এলাকায় বাস করতেন এবং পেশা ছিল কাঠমিস্ত্রি। তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা ঘটনায় শোক প্রকাশ করে এবং ন্যায়বিচার চায়।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি তদন্তে তৎপর এবং শাকিলের পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।



