FA কাপের রাউন্ডে ওয়েস্ট হ্যাম এবং কুইন্স পার্ক রেজারস (কিউপিআর) মুখোমুখি হয়। অতিরিক্ত সময়ে ট্যাটি ক্যাস্টেলানোসের গলে হ্যামসের জয় নিশ্চিত হয়। এই জয়টি দলটির ৮ নভেম্বরের পর প্রথম জয় এবং কোচ নুনো এস্পিরিটো সান্তোর জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে উভয় দলই সমানভাবে চাপ সৃষ্টি করে, তবে কোনো গোল না হয়ে সময় শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে কিউপিআরের আক্রমণাত্মক খেলায় কিছু সুযোগ তৈরি হলেও হ্যামসের রক্ষণাবেক্ষণ দৃঢ় থাকে। অতিরিক্ত সময়ে ক্যাস্টেলানোসের গলটি ম্যাচের ফলাফল বদলে দেয়।
ক্যাস্টেলানোসের গল ছাড়াও ক্রিসেন্সিও সামারভিলেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সামারভিল প্রথম গোলটি himself করে এবং শেষ গলটির সহায়তা করে, ফলে তার পারফরম্যান্সকে হ্যামসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। উভয় খেলোয়াড়ের এই অবদান দলকে অতিরিক্ত সময়ে জয় এনে দেয়।
ওয়েস্ট হ্যামের এই জয়টি কোচ নুনো এস্পিরিটো সান্তোর অবস্থানকে শক্তিশালী না করলেও, দলটি দীর্ঘ সময়ের পর প্রথম জয় পেয়ে আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করে। তবে দলটি এখনও দ্বিতীয় স্তরে (চ্যাম্পিয়নশিপ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের মুখে।
স্টেডিয়ামের ভিড়ের পরিবেশও ম্যাচের মেজাজকে প্রভাবিত করে। টিকিটের দাম কম রাখা হয়, শিশুদের জন্য এক টাকা টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়, ফলে নটিংহাম ফরেস্টের সঙ্গে মধ্যসপ্তাহের হারের তুলনায় স্টেডিয়াম তুলনামূলকভাবে ভিড়পূর্ণ ছিল।
যুবক ভক্তদের চিৎকার ও গর্জন গেমের সময় শোনা যায়, এবং পশ্চিম লন্ডনের সমর্থকগণও তাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করে তুলেছিল। কিউপিআরের সমর্থকরা “আগামী বছর আবার দেখা হবে” গানে গাইতে গাইতে বিদায় জানায়।
হ্যামসের ঘরে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে কিছু বিরোধপূর্ণ মনোভাবও দেখা যায়। ডেভিড সুলিভান ও ক্যারেন ব্রেডির প্রতি রেড কার্ডের প্রতিবাদে কিছু ভক্ত চিৎকার করে, এবং ক্লাবের ওলিম্পিক স্টেডিয়ামে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিরোধে ঐতিহ্যবাহী গীত গাওয়া হয়।
FA কাপের অন্য একটি উল্লেখযোগ্য ম্যাচে ম্যানসফিল্ড শেফিল্ড ইউনাইটেডকে ৪-৩ স্কোরে পরাজিত করে। লুইস রিডের ১৩ মিনিটে করা দ্রুত গল ম্যাচের টোন নির্ধারণ করে। গ্যাস্টাভো হ্যামার দীর্ঘ দূরত্বের শট দিয়ে সমতা রক্ষা করেন। রিডের দ্বিতীয় গলও দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
শেফিল্ড ইউনাইটেডের লুকাস অ্যাকিন্স ও রাইস ওটসের গলগুলো দলকে ৪-১ স্কোরে নিয়ে যায়, তবে ম্যানসফিল্ডের শেষ মুহূর্তের প্রচেষ্টায় তারা সমতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়। এই জয়টি ম্যানসফিল্ডের জন্য বড় একটি আপসেট হিসেবে বিবেচিত হয়।
ম্যাচের পর উভয় দলের কোচের মন্তব্যে দেখা যায়, হ্যামসের কোচ দলকে আরও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বলছেন, আর ম্যানসফিল্ডের কোচ দলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করছেন।
পরবর্তী সপ্তাহে ওয়েস্ট হ্যাম তাদের লিগ ম্যাচে ফিরে যাবে, যেখানে তারা চ্যাম্পিয়নশিপের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হবে। কিউপিআরও তাদের লিগের পরবর্তী চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নেবে।
FA কাপের এই রাউন্ডে উভয় দলই উত্তেজনাপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, এবং ভক্তদের জন্য স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করেছে। ম্যাচের ফলাফল ও পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ গেমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত প্রদান করবে।



