দক্ষিণ বনশ্রীর এল‑ব্লকের প্রীতম ভিলা থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিলির (ফাতেমা আক্তার নিলি) গলাকাটা মৃতদেহ শনিবার বিকেলে উদ্ধার করা হয়। ১৭ বছর বয়সী কিশোরী রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা-মা ও ভাই হাবিগঞ্জের গ্রাম বাড়িতে ছিলেন, আর বড় বোন শোভা আক্তার জিমে গিয়েছিলেন। শোভা বিকাল ৩:৩০ টার দিকে বাড়ি ফিরে রান্না ঘরের মেঝেতে গলাকাটা অবস্থায় নিলিকে দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানিয়ে দেন।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, নিলির পরিবার তার বাবার স্বামীর অধীনে পরিচালিত ‘শাহজালাল হোটেল’ নামের একটি খাবার হোটেল রয়েছে, যেখানে নিলির বাবা মো. সজিব এবং তার ছেলে শাকিল ব্যবসা চালাতেন। ৭ জানুয়ারি সজিব ও শাকিল জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য হাবিগঞ্জে গিয়েছিলেন, আর শোভা ও নিলি বাড়িতে ছিলেন।
ঘটনার পর নিলির বাবা মো. সজিব শনিবার রাতেই ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রজু আহমেদ মামলাটি গ্রহণ করেন এবং তদন্তের প্রতিবেদন ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব খিলগাঁও থানা এসআই আব্দুর রাজ্জাক (রাজু) পালন করছেন।
মামলার রেকর্ডে উল্লেখ আছে যে, নিলির গলাকাটা হঠাৎ ঘটেছে এবং তার মৃত্যুর পেছনে অজ্ঞাত এক বা একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। সজিব পরিবারকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং দাবি করেন যে পূর্বের কোনো শত্রুতার ফলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশিত হয়নি এবং গ্রেপ্তারও করা হয়নি।
পুলিশের মতে, তদন্তে দুইটি সম্ভাব্য দিক বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রথমটি হল নিলির বয়স ও শিক্ষার্থী অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে তার বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা থেকে মাদকাসক্তি বা যৌন নির্যাতনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। দ্বিতীয়টি হল পূর্বের শত্রুতার ভিত্তিতে কোনো গোষ্ঠীগত বা ব্যক্তিগত বিরোধের সম্ভাবনা। তদন্তকারী কর্মকর্তারা উভয় দিকই বিশ্লেষণ করছেন এবং প্রমাণ সংগ্রহে অগ্রসর।
নিলির মৃতদেহ উদ্ধার করার পর পরিবারকে হাবিগঞ্জের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা ৯ টার দিকে নিলির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং তাদের জানানো হয় যে মৃতদেহটি নিরাপদে স্থানান্তরিত হয়েছে। পরিবার বর্তমানে শোকাহত এবং তদন্তের দ্রুত সমাপ্তি ও দায়ী ব্যক্তির গ্রেপ্তার চায়।
ম্যাজিস্ট্রেট রজু আহমেদের নির্দেশে, তদন্তের অগ্রগতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে শীঘ্রই অতিরিক্ত তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান এবং পরবর্তী শোনানির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বাড়িতে একা না থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। নিলির পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও শোক প্রকাশ করে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।



