বিপিএল-এ নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও ঢাকা ক্যাপিটালসের মুখোমুখি ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ১৮৪ রান করে ৭ উইকেটে জয়লাভ করে। এই জয়কে আরও বিশেষ করে তুলেছে বাবা‑ছেলের অনন্য সংযোজন, যেখানে আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী এবং তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে, ওপেনার হাসান ইসাখিল একসঙ্গে মাঠে নামেন।
মোহাম্মদ নবী ম্যাচের আগে ক্যাপ পরিয়ে দেন নিজের পুত্রকে, যা বিপিএল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দলে বাবা‑ছেলের সমন্বয় ঘটায়। উভয়ই পূর্বে আফগানিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে ছয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিলেন, তবে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জার্সিতে একসঙ্গে প্রথমবারের মতো খেলেছেন।
খেলাটির শুরুর দিকে হাসান ইসাখিল এবং সৌম্য সরকার ১০১ রান partnership গড়ে দলকে শক্তিশালী সূচনা দেন। সৌম্য ২৫ রান করে ৪৮ ball-এ আউট হন, আর ইসাখিল ৪৮ রান করেন। এরপর নবীর সঙ্গে ৪র্থ উইকেটে ৩০ রান partnership গড়ে ইসাখিলের স্কোর ৭৩-এ পৌঁছায়, যা দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস ১৮.২ ওভারে ১৮৪/৭ স্কোরে নির্ধারিত ওভারে থেমে যায়। ইসাখিলের ইনিংস ছিল দলের সর্বোচ্চ, যেখানে তিনি ৯২ ball-এ ৬০ রান করেন, সঙ্গে ৭টি চার এবং ৫টি ছক্কা। তার এই পারফরম্যান্সই দলকে জয়ের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে।
ঢাকা ক্যাপিটালস ১৮৫ রান তাড়া করতে বেরিয়ে ১৪৩ রান করে ১০ ball বাকি থাকতেই অলআউট হয়। শামীম হোসেন ১৬ রান, মিঠুন ৩১ রান এবং সাইফউদ্দিন ২০ রান করলেও লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বোলিং দিকেও বাবা‑ছেলের সমন্বয় কাজ করে। হাসান মাহমুদ, ইহসানউল্লাহ, মেহেদি হাসান এবং মোহাম্মদ নবী প্রত্যেকে দুইটি করে উইকেট নেন, যা শত্রু দলের স্কোরকে সীমাবদ্ধ রাখতে সহায়তা করে।
সিরিজে টানা ছয় ম্যাচ হারের পর নোয়াখালী এক্সপ্রেস দুইটি ধারাবাহিক জয় পেয়েও এখনও টেবিলের তলানিতে রয়েছে। সমান পয়েন্টে থাকলেও রান রেটের পার্থক্যের কারণে ঢাকা ক্যাপিটালসের ঠিক উপরে অবস্থান করে।
বিপিএল ইতিহাসে বাবা‑ছেলের একই দলে খেলার ঘটনা নতুন, যদিও আন্তর্জাতিক টি‑টোয়েন্টিতে ৫০ বছর বয়সী সুহাইল সাত্তার ও তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে ইয়াহিয়া সাত্তার একসঙ্গে খেলেছেন। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের এই প্রথম অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও পরিবারিক সংযোজনের সম্ভাবনা খুলে দিতে পারে।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পরবর্তী ম্যাচে দলটি আবার পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য লড়াই করবে, আর বাবা‑ছেলের জুটি কীভাবে পারফরম্যান্স বজায় রাখবে তা নজরে থাকবে।



