ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতা, আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহম্মাদ রেজাউল করীম রবিবার একটি বিবৃতিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনসহ দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২৪ জুলাই দেশের তরুণ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জীবন ঝুঁকিতে রেখে রাজপথে নেমে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে এবং সেই সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের প্রভাব থেকে মুক্তি পেয়েছে। তবে, ফ্যাসিবাদী আইন, রীতি ও সংস্কৃতি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়নি; তাই জুলাই সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে এই অবশিষ্ট কাঠামোকে চিরতরে বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রেজাউল করীমের মতে, জুলাই সনদকে কার্যকর করতে গণভোটের আয়োজন অপরিহার্য, এবং এই ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত না হলে সনদের বাস্তবায়ন ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২৪ জুলাইয়ের সংগ্রাম শুধুমাত্র নির্বাচনের জন্য নয়, বরং একটি বৃহত্তর লক্ষ্যের জন্য ছিল, যেখানে জনগণ দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চেয়েছিল। সেই লক্ষ্যই জুলাই সনদের মূল বিষয়বস্তু হিসেবে সংযুক্ত হয়েছে।
চরমোনাই পীর আরও উল্লেখ করেন, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি আলাদা করা উচিত, কারণ একসাথে অনুষ্ঠিত হলে সনদের আলোচনার গুরুত্ব কমে যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে যে, একসঙ্গে ভোটের পরিকল্পনা সনদের মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষুন্ন করছে। তিনি সতর্ক করেন, যদি জুলাই সনদের পক্ষে যথেষ্ট জনসমর্থন না অর্জিত হয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচনের বৈধতা উভয়ই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
সুতরাং, রেজাউল করীমের দৃষ্টিতে, সনদের আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং গণভোটের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনি কাঠামোর পুনর্গঠনের জন্য অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এখনও বিদ্যমান এবং তা দূর করার জন্য সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনকে একসাথে আয়োজনের বিরোধিতা করে, কারণ তারা মনে করে একসাথে হলে সনদের বিষয়বস্তু যথাযথভাবে আলোচনা করা সম্ভব হবে না। তবে, চরমোনাই পীরের মতে, এই মতবিরোধের সমাধান হবে জনমত সংগ্রহের মাধ্যমে সনদের পক্ষে সমর্থন বাড়ানো এবং নিরাপদ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
আসন্ন গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিসরে বড় প্রভাব ফেলবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ কার্যকর হলে, ফ্যাসিবাদী আইন ও রীতির সম্পূর্ণ বিলোপের পথে অগ্রগতি হবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হবে। অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের ফলে সনদের বৈধতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে প্রশ্ন উঠতে পারে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
রেজাউল করীমের বক্তব্যের ভিত্তিতে, সরকারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করে ভোটের দিন নাগরিকদের নিরাপদে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া গণভোটের সাফল্য নিশ্চিত করা কঠিন। এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ভোটের আগে জনমত সংগ্রহের কাজ বাড়বে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
সংক্ষেপে, চরমোনাই পীরের মতে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করা অপরিহার্য, এবং এর জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনমত সংগ্রহ করা এবং সনদের আলোচনাকে অব্যাহত রাখা জরুরি।



