27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিনিউক্লিয়ার স্টার্টআপগুলো ছোট রিঅ্যাক্টরে তহবিল সংগ্রহ করে শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

নিউক্লিয়ার স্টার্টআপগুলো ছোট রিঅ্যাক্টরে তহবিল সংগ্রহ করে শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিউক্লিয়ার স্টার্টআপগুলো একত্রে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। বিনিয়োগকারীরা ছোট রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি সফল হলে পুরো শিল্পের পুনর্জাগরণ ঘটবে বলে আশাবাদী। এই প্রবণতা পুরনো পারমাণবিক কেন্দ্রের সংস্কার এবং নতুন উদ্যোগের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহৎ পুনরুত্থানকে নির্দেশ করে।

প্রচলিত পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরগুলো বিশাল অবকাঠামো নিয়ে গঠিত, যার উদাহরণ হিসেবে জর্জিয়ার ভগটলে ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিট উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি ইউনিটে দশ হাজার টনেরও বেশি কংক্রিট, ১৪ ফুট লম্বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি এবং এক গিগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। তবে এই প্রকল্পগুলো আট বছর দেরি এবং ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট অতিক্রম করেছে।

নতুন স্টার্টআপগুলো রিঅ্যাক্টরের আকার কমিয়ে এই দুই বড় সমস্যার সমাধান খুঁজছে। ছোট রিঅ্যাক্টরকে একাধিক ইউনিটে ভাগ করে চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত বাড়ানো সম্ভব বলে তারা দাবি করে। তাছাড়া, ছোট ইউনিটগুলোকে সিরিয়াল উৎপাদনের মাধ্যমে খরচ কমানো এবং সময়সীমা হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

আকার হ্রাসের পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভলিউমের সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্কেল ইকোনমি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এখনও এই স্কেল ইফেক্টের পরিমাণ নির্ধারণে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে স্টার্টআপগুলো ইতিমধ্যে এই সম্ভাবনাকে শূন্যের উপরে ধরে কাজ করছে।

তবে উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ নয়; টেসলার মডেল ৩ উৎপাদনে যে সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছিল, তা একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। গাড়ি শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও টেসলা বড় পরিসরে মডেল ৩ উৎপাদনে লাভজনকতা অর্জনে সংগ্রাম করেছে। নিউক্লিয়ার স্টার্টআপগুলোকে এই ধরনের উৎপাদন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, যদিও তাদের শিল্পের ভিত্তি ভিন্ন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউক্লিয়ার সরবরাহ শৃঙ্খলে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। ডি.সিভি.সি.-এর পার্টনার মিলো ওয়ার্নার উল্লেখ করেন, দেশীয়ভাবে উৎপাদন না হওয়া পাঁচ থেকে দশটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে, যা সবই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এই পরিস্থিতি শিল্পকে অতিরিক্ত খরচ এবং সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়।

ওয়ার্নার নিজে টেসলা এবং ফিটবিটে উৎপাদন লাইন চালু করার অভিজ্ঞতা রাখেন। টেসলায় নতুন পণ্য পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় তিনি সরবরাহ শৃঙ্খলের জটিলতা firsthand দেখেছেন। ফিটবিটে চীনে চারটি ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠার সময়ও তিনি একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন।

এই অভিজ্ঞতা নিউক্লিয়ার স্টার্টআপগুলোর জন্য মূল্যবান নির্দেশনা প্রদান করে। তারা কীভাবে বিদেশি উপাদানকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য করে তুলবে, অথবা বিকল্প উপাদান খুঁজে বের করবে, তা এখনো গবেষণার বিষয়। তদুপরি, উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বয়ংক্রিয়তা এবং মডুলার ডিজাইনকে অগ্রাধিকার দিয়ে খরচ কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীরা ছোট রিঅ্যাক্টরের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন। তহবিলের প্রবাহ মূলত এই ধারণার উপর ভিত্তি করে যে, ছোট ইউনিটগুলো দ্রুত স্থাপন এবং কম আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করবে। ফলে, ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় এই প্রযুক্তি একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বাজারে ইতিমধ্যে কয়েকটি স্টার্টআপ সক্রিয়ভাবে ছোট রিঅ্যাক্টর ডিজাইন ও প্রোটোটাইপ তৈরি করছে। তাদের লক্ষ্য হল ১০০ মেগাওয়াট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মডেল তৈরি করা, যা গ্রিডের সাথে সহজে সংযুক্ত করা যায়। এই মাপের রিঅ্যাক্টরগুলোকে মডুলার রিঅ্যাক্টর (SMR) বলা হয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা দ্বারা সমর্থিত।

কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, যদি এই SMR গুলো ব্যয়সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ প্রমাণিত হয়, তবে তারা পারমাণবিক শক্তির পুনরায় গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দূরবর্তী বা গ্রামীণ এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামো দুর্বল, সেখানে ছোট রিঅ্যাক্টর দ্রুত শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।

অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রক কাঠামোও এই নতুন প্রযুক্তির জন্য অভিযোজিত হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (NRC) বর্তমানে ছোট রিঅ্যাক্টরের লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সরলীকরণে কাজ করছে। তবে নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত প্রভাবের মূল্যায়ন এখনও কঠোরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, নিউক্লিয়ার স্টার্টআপগুলোর তহবিল সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন শিল্পের পুনর্জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। যদিও উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবু বিনিয়োগের প্রবাহ এবং গবেষণার অগ্রগতি ভবিষ্যতে পারমাণবিক শক্তির ভূমিকা পুনর্নির্ধারণে সহায়তা করবে। এই পরিবর্তনটি শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ কমানো, নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো এবং কার্বন নির্গমন হ্রাসের দিকে অবদান রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments