রবিবার, ১১ জানুয়ারি, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের সোনামুই বাজারের পাশে অবস্থিত একটি প্রিক্যাডেট স্কুলে সাত বছর বয়সী জুনায়েদ প্রথম দিন স্কুলে গিয়ে দুঃখজনকভাবে ডুবে মারা যান। তার মা‑বাবা শফিকুল ইসলাম ও চাঁদা খাতুনের একমাত্র সন্তানটি, সকাল ৯টায় স্কুলের ইউনিফর্ম পরে, মায়ের হাত ধরে স্কুলে পৌঁছায়। পথে মা‑কে চকলেট চেয়ে, মা তা পূরণ করেন, এবং শিশুটি আনন্দে ভরে ওঠে।
ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ পানির তৃষ্ণা অনুভব করে জুনায়েদ কোনো জানানো ছাড়াই ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে যায়। স্কুলের পাশে অবস্থিত একটি মসজিদের টিউবওয়েল তার দৃষ্টিতে আসে, যেখানে সে পানি তোলার জন্য হ্যান্ডেল চাপতে গিয়ে পা পিছলে যায় এবং কাছের গভীর পানিতে পূর্ণ ট্যাংকিতে পড়ে যায়। ট্যাংকির পানির গভীরতা এবং পৃষ্ঠের পিচ্ছিলতা তাকে তৎক্ষণাৎ তলিয়ে দেয়, ফলে সে তৎক্ষণাৎ তলিয়ে যায়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাকিমের মতে, জুনায়েদের অদৃশ্য হওয়া প্রায় আট ঘণ্টা পর ট্যাংকির পানিতে তার দেহ ভাসতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ অনুসন্ধান চালু হয়, তবে শিশুটির দেহ পাওয়া পর্যন্ত সময় লাগে। দেহটি পাওয়া যাওয়ার পর তা স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্বারা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
জুনায়েদের বাবা শফিকুল ইসলাম জানান, প্রথম দিন স্কুলে যাওয়ার সময় তার পুত্রের মধ্যে সীমাহীন উচ্ছ্বাস ছিল। ভোরে মায়ের কাছে স্কুলে যাওয়ার অনুরোধ করে, সে আনন্দে ভরে গিয়ে বাড়ি ছেড়ে যায়। বাবা-মা তখনই বুঝতে পারেননি যে সেই আনন্দই শেষের দিকে নিয়ে যাবে। শোকের মধ্যে বাবা-মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “সেই বায়না ছিল শেষ বায়না”।
স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, একই ম্যানহোলে পূর্বেও অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তবে তা যথাযথভাবে প্রকাশিত হয়নি। তিনি বলেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধের জন্য টিউবওয়েল ও ট্যাংকির নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, টিউবওয়েল ও ট্যাংকির কাঠামোতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি থাকতে পারে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে সংশোধন করা হবে। এছাড়া, স্কুলের নিরাপত্তা প্রোটোকল ও শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে।
এই দুঃখজনক ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। জুনায়েদের পরিবার এখন শোকের মধ্যে ডুবে আছে, আর প্রতিবেশীরা তার স্মরণে শোকের মিছিল চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষজনের মতে, এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে টিউবওয়েল ও ট্যাংকির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ বাড়ানো এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা জরুরি।
প্রতিবেদন অনুসারে, ট্যাংকির পানিতে ডুবে যাওয়া শিশুর দেহ উদ্ধার করার পর, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা দেহের পরিচয় নিশ্চিত করে, পরিবারকে জানায়। পরিবার এখন শোকের মধ্যে, এবং ভবিষ্যতে একই রকম দুর্ঘটনা রোধে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।
এই ঘটনার পর, টাঙ্গাইলের শিক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় সরকার একত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন ও সংশোধনের পরিকল্পনা তৈরি করেছে। টিউবওয়েল ও ট্যাংকির রক্ষণাবেক্ষণ, শিক্ষার্থীদের নিরাপদে পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং জরুরি উদ্ধার প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
জুনায়েদের মৃত্যু একটি দুঃখজনক স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে রয়ে যাবে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করবে। পরিবার, শিক্ষক ও স্থানীয় সমাজের সমবেত প্রচেষ্টা দিয়ে এই ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



