রবিবার সকাল প্রায় ৯ টার দিকে নেত্রকোনা পৌরসভার রাজুরবাজার এলাকায় মোহনগঞ্জ‑ময়মনসিংহ রেলপথে এক ট্রেনের দরজা থেকে পড়ে ১৮ বছর বয়সী কলেজছাত্রের মৃত্যু ঘটেছে। ভিড়ের চাপের ফলে ট্রেনের দরজা থেকে ছিটকে পড়া যুবকটি রেললাইন পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আঘাত পায়। স্থানীয় চিকিৎসকগণ তাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘোষণা দেন।
মৃত্যুর শিকার ছিলেন ইয়াসিন আহমেদ, যিনি বারহাট্টা উপজেলার ধনপুর গ্রাম থেকে আসা ১৮ বছর বয়সী বাসিন্দা। তিনি নেত্রকোনা আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার শিক্ষার্থী ছিলেন এবং সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কলেজে যাওয়ার পথে ছিলেন।
ইয়াসিন মোহনগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছে ঢাকা গামী আন্তনগর হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে নেত্রকোনার দিকে রওনা হন। ট্রেনের বগিতে ভিড়ের কারণে তিনি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যেখানে ভিড়ের চাপ বাড়তে থাকে।
প্রায় ৯ টার দিকে ট্রেনটি রাজুরবাজার এলাকায় পৌঁছালে ভিড়ের তীব্রতা বাড়ে, ফলে দরজা থেকে ছিটকে পড়ে ইয়াসিন রেললাইনের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এই ধাক্কা তার শিরা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গুরুতর ক্ষতি করে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর কাছাকাছি থাকা স্থানীয় মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। আহত যুবককে তৎক্ষণাৎ রেলস্টেশন থেকে ট্রান্সফার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা সত্ত্বেও, ইয়াসিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রুত ঘটে এবং চিকিৎসকগণ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃতদেহ পরে হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মো. আখতার হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্তের সূচনা জানান। তিনি জানান, মৃতদেহের ময়না পরীক্ষা এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শক হোসেন উল্লেখ করেন, রেলওয়ে নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ না করা, ট্রেনের ভিড় নিয়ন্ত্রণে ত্রুটি এবং দরজা বন্ধ না হওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো তদন্তের মূল দিক হবে। সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনা ঘটার সময় ট্রেনের দরজা বন্ধ না হওয়া এবং ভিড়ের চাপের ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে, এ বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে দরজা সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটিকে গম্ভীরভাবে গ্রহণ করে, রেলওয়ে ও পুলিশ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মৃতদেহের ময়না ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করা হবে।
ইয়াসিনের পরিবার ও বন্ধুদের শোকের মধ্যে, স্থানীয় সমাজও এই দুঃখজনক ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে রেলপথে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটাই সকলের সম্মিলিত প্রত্যাশা।
এই দুর্ঘটনা রেলপথে যাত্রী নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাগুলোকে আবারো উন্মোচিত করেছে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণে বাধ্য করেছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



