20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকআইসিজে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় পাবলিক শুনানি সোমবার থেকে শুরু

আইসিজে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় পাবলিক শুনানি সোমবার থেকে শুরু

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) হ্যাগে সোমবার রোহিঙ্গা জনগণের বিরুদ্ধে গ্যাম্বিয়ার গণহত্যা মামলায় পাবলিক শুনানি শুরু করবে। শুনানিগুলি ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এবং মামলার মূল বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা হবে। গ্যাম্বিয়া ১১ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে মায়ানমারকে লক্ষ্য করে আইসিজে-তে আবেদন দাখিল করেছিল।

আইসিজে-র প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই পর্যায়ে মামলার মূল দিকগুলো বিশ্লেষণ করা হবে, যার মধ্যে সাক্ষী ও পক্ষগুলোর দ্বারা উপস্থাপিত বিশেষজ্ঞের মতামত অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শুনানির সময় উভয় পক্ষের আইনজীবীরা প্রমাণ উপস্থাপন ও প্রশ্নোত্তর সেশনের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করার সুযোগ পাবে।

গ্যাম্বিয়ার মানবাধিকার নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ওয়াই ওয়াই নু এই প্রক্রিয়াকে রোহিঙ্গা জনগণের জন্য দীর্ঘদিনের কষ্টের সমাপ্তির সম্ভাবনা হিসেবে দেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রোহিঙ্গা জনগণের ওপর চলমান লঙ্ঘনগুলোকে থামাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন।

গ্যাম্বিয়া ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে মায়ানমারকে লক্ষ্য করে আইসিজে-তে গণহত্যা মামলায় অভিযোগ দায়ের করে, যেখানে বলা হয়েছে মায়ানমার জেনোসাইড কনভেনশনের অধীনে তার দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছে। গ্যাম্বিয়া দাবি করে যে, মায়ানমারকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বন্ধ করতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

মামলাটির আইনি ভিত্তি জেনোসাইড কনভেনশনের ধারা IX, যা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আইসিজের অধিকারকে নিশ্চিত করে। গ্যাম্বিয়া আবেদনপত্রের সঙ্গে সাময়িক ব্যবস্থা (প্রোভিশনাল মেজার) চাওয়ার অনুরোধও যুক্ত করে, যাতে মায়ানমারকে তাত্ক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা যায়।

২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি আইসিজে মায়ানমারের বিরুদ্ধে কয়েকটি সাময়িক ব্যবস্থা আদেশ করে, যার মধ্যে রোহিঙ্গা জনগণের ওপর সামরিক কার্যক্রমের অব্যাহতিকে রোধ করার নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই আদেশের পর মায়ানমার আদালতের অধিকার ও আবেদনপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আপত্তি জানায়।

মায়ানমার কর্তৃক উত্থাপিত আপত্তিগুলো সত্ত্বেও, ২২ জুলাই ২০২২ তারিখে আইসিজে গ্যাম্বিয়ার আবেদন গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করে এবং ধারা IX-এর ভিত্তিতে আদালতের বিচারিক ক্ষমতা স্বীকার করে। এই রায় আইসিজের ইতিহাসে রোহিঙ্গা জনগণের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একটি বিবৃতি অনুযায়ী, মায়ানমার সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা জনগণের ওপর সহিংসতা, জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি এবং মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন চালিয়ে আসছে। সংস্থা এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আইসিজের হস্তক্ষেপকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা মামলাটি পূর্বের আইসিজের অন্যান্য মানবাধিকার মামলার সঙ্গে তুলনা করা হয়, যেমন জর্জিয়া-রাশিয়া সংঘাত ও ইরাকের যুদ্ধ অপরাধের মামলাগুলো। এসব মামলায়ও আদালত প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞের মতামতকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করেছে।

শুনানির পরবর্তী ধাপগুলোতে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা অতিরিক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করবে এবং আদালত মামলার মূল বিষয়গুলোতে চূড়ান্ত রায় প্রদান করবে। আইসিজে এই রায়ের মাধ্যমে মায়ানমারকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিতে পারে।

মামলাটির অগ্রগতি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থান ও মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা এই আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

আইসিজে-র পাবলিক শুনানি শেষ হওয়ার পর, আদালত সম্ভবত একটি চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করবে, যা মায়ানমারকে জেনোসাইড কনভেনশনের অধীনে তার দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করবে। এই রায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments