চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শা. হোসেন রবিবার সকালে রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে জানালেন, রাষ্ট্রের সক্রিয় সহায়তা ছাড়া শহরকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার যদি চট্টগ্রামকে এই পদে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য সকল সংশ্লিষ্টের সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার।
বৈঠকটি প্রথম আলো সংগঠিত করে, যার আয়োজনে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড, আবুল খায়ের গ্রুপ এবং টিকে গ্রুপের সহায়তা ছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শহরের ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, সরকারি কর্মকর্তা এবং কিছু বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার কৌশল ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
মেয়র শা. হোসেন ২০০৩ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অধিবেশনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। সেই সময়ে কিছু নীতি নির্ধারণ করা হয়েছিল, তবে পরবর্তী সরকারগুলো সেই দিকের কোনো বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তিনি জোর দিয়ে বললেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভাব চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে রাখে এবং এ ধরণের অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
খালেদা জিয়ার সময়ে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা এবং কিছু বীমা ও ব্যাংকের সদর দপ্তর চট্টগ্রামে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে সেগুলো পরবর্তীতে অন্যত্র চলে যায়। শা. হোসেন এই বিষয়গুলোকে চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সামনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে নগর সরকারের সমর্থন ছাড়া কোনো শহরকে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা কঠিন।
ভৌগোলিক দিক থেকে চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে; পর্তুগিজ ও ব্রিটিশ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের শিকড় ২৫০-৩০০ বছর আগে এই অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়। শা. হোসেন বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এই ভৌগোলিক সুবিধা এবং বাণিজ্যিক মূল্যের কারণে চট্টগ্রামকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তিনি শহরের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করতে আহ্বান জানান।
শহরের নালা, নর্দমা ও খালের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে অতিরিক্ত তথ্যও শেয়ার করা হয়। ২০১৭ সালে খাল সংস্কারের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন থেকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছিল, যা শহরের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা এনে দেয়।
বৈঠকের শেষে অংশগ্রহণকারীরা চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি, আইন এবং বাজেটের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। ভবিষ্যতে সরকারী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাণিজ্যিক জোন এবং লজিস্টিক হাবের উন্নয়ন দ্রুততর হতে পারে। শা. হোসেনের মতে, এইসব পদক্ষেপের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন চট্টগ্রামকে দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।



