কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় কুতুবজোম ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় রবিবার বিকালে পুলিশ দুই মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। মৃতদেহে এক নারী, ২৬ বছর বয়সী ইসমত আরা, এবং তার চার বছর বয়সী পুত্র আবরার অন্তর্ভুক্ত। ঘটনাস্থলে রক্তের চিহ্ন ও একটি ভাঙা ইট পাওয়া গেছে।
পুলিশের মতে, মৃতদেহগুলো রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে শুয়ে ছিল এবং নারীর মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। মৃতদেহের সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য ময়নাতদন্ত করা হবে।
মহেশখালী থানার ওয়ানডি অফিসার মজিবুর রহমান ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইসমত আরার পরিবার থেকে জানা যায় তিনি দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবার পূর্বে তার আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেছিল।
ওয়ানডি আরও উল্লেখ করেন, পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে, তবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। মৃতদেহের অবস্থান, আঘাতের ধরন এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা বা হত্যা কোনটি তা নির্ধারণ করা হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন জানান, ইসমত আরা ডিভোর্সপ্রাপ্ত ছিলেন এবং বাবার বাড়ির পাশে একটি ছোট ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থল সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
পুলিশের তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রমাণ সংগ্রহ করছে। মৃতদেহের কাছাকাছি পাওয়া ইটটি সম্ভাব্য সংঘর্ষের ইঙ্গিত দিতে পারে, তবে তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ফরেনসিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত আত্মহত্যা, হত্যা বা দুর্ঘটনা কোনটি তা নিশ্চিত করা কঠিন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা সকল সম্ভাব্য দিক বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।
স্থানীয় জনগণ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে এবং পরিবারকে সমবেদনা জানায়। কিছু প্রতিবেশী ইসমত আরার মানসিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে, যা তার শেষ মুহূর্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করেন।
অধিক তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশ তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে কোনো সন্দেহভাজন বা অপরাধীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মহেশখালী থানার ওয়ানডি অফিসার মজিবুর রহমান জানান, তদন্ত চলাকালে কোনো নতুন সূত্র পাওয়া গেলে তা দ্রুত আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এই মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।



