প্যালেস্টাইন সলিডারিটি কমিটি, বাংলাদেশ আজ (১১ জানুয়ারি ২০২৬) ইন্টারিম সরকারের গাজা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (ISF) অংশগ্রহণের ইচ্ছা কঠোরভাবে নিন্দা করে তৎক্ষণাৎ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। কমিটি দাবি করে যে, সরকার এই সিদ্ধান্তে অগ্রসর হওয়া জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
কমিটির মতে, গাজা ISF‑এর প্রধান কাজ হবে ইসরায়েল নিরাপত্তার নামে গাজার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অস্ত্রবিহীন করা এবং ফলস্বরূপ ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনকে সম্পূর্ণভাবে দমন করা। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা সরকারকে সতর্ক করে যে, বাহিনীর প্রকৃত উদ্দেশ্য গাজা অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন ও মানবাধিকারকে ক্ষুণ্ণ করার দিকে ঝুঁকছে।
কমিটির সদস্য সেক্রেটারি, প্রফেসর মো. হারুন‑ওর‑রশিদ উল্লেখ করেন যে, গাজা ISF‑এর গঠন ও কার্যক্রমের পটভূমি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর অধীনে গাজা জনগণের স্বায়ত্তশাসনকে সীমাবদ্ধ করার পরিকল্পনা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যদি এই বাহিনীতে যোগ দেয়, তবে তা ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষার ঐতিহ্যবাহী অবস্থানকে বিপরীতমুখী করবে।
ইন্টারিম সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণরত অবস্থায়, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয়ক অধীনস্থ সহ-সচিব অ্যালিসন হুকার এবং সহকারী সচিব পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ গাজা ISF‑এ অংশ নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই তথ্য সরকারী প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিটি জোর দিয়ে বলেছে যে, সরকারের এই পদক্ষেপটি কেবল নীতিগত নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। গাজা ISF‑এ অংশগ্রহণের সম্ভাব্যতা নিয়ে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি, তবে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি উন্মোচিত হয়েছে।
বাংলাদেশের ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া হয়েছে। প্যালেস্টাইন সলিডারিটি কমিটি উল্লেখ করে যে, দেশের জনগণ ও বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী সবসময়ই ফিলিস্তিনের স্বায়ত্তশাসন ও মানবিক সহায়তার পক্ষে সুর তুলেছে।
এই বিরোধের ফলে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারকে আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে, কারণ গাজা ISF‑এ অংশগ্রহণের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির সঙ্গে সংযুক্ত।
কমিটি তৎক্ষণাৎ সরকারকে গাজা ISF‑এ অংশগ্রহণের পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়াতে এবং পূর্বে গৃহীত ফিলিস্তিন সমর্থন নীতি বজায় রাখতে আহ্বান জানায়। তারা আশা করে যে, সরকারী সিদ্ধান্তে পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং ভবিষ্যতে পার্লামেন্টে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
অবশেষে, প্যালেস্টাইন সলিডারিটি কমিটি জোর দিয়ে বলেছে যে, গাজা ISF‑এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ফিলিস্তিনি জনগণের স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ন্যায়বিচারবোধের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে। তারা সরকারকে এই বিষয়টি পুনরায় মূল্যায়ন করে জাতীয় স্বার্থ ও মানবিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়।



