19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমুসলিম সেবক দালের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মুসাব্বিরের হত্যাকাণ্ডে ব্যবসায়িক বিরোধের ইঙ্গিত

মুসলিম সেবক দালের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মুসাব্বিরের হত্যাকাণ্ডে ব্যবসায়িক বিরোধের ইঙ্গিত

ঢাকা শহরের উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দালের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের গুলি হানা গত বুধবার রাত প্রায় আটটায় কাজি নাজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের হোটেল সুপার স্টার নিকটবর্তী গলিতে ঘটেছে। গুলি চালিয়ে দুইজন গুলিবিদ্ধের মধ্যে মুসাব্বিরের সঙ্গে তেজগাঁও থানা ভ্যান কর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান বেপারী মাসুদও আহত হন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ শাখার অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম আজ মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটির তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে বলেন, মুসাব্বিরের হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যবসায়িক বিরোধের সম্ভাবনা বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রেরণা যাচাই করা হচ্ছে, তবে প্রাথমিক ফলাফল ব্যবসায়িক সংঘর্ষের দিকে ইঙ্গিত করে।

ডিটেকটিভ শাখা দেশের বিভিন্ন জেলা জুড়ে অপারেশন চালিয়ে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ২৪ বছর বয়সী জিন্নাত, গুলিবিদ্ধদের একজন গুলিবিদ্ধ, এবং মূল পরিকল্পনাকারী বলে সন্দেহভাজন মোহাম্মদ বিলাল হোসেন অন্তর্ভুক্ত। বিলালের চাচা, ২৮ বছর বয়সী আবদুল কাদিরও গ্রেফতার হয়েছেন, যিনি সন্দেহভাজনদের পলায়নে সহায়তা করার অভিযোগে আটক হয়েছেন।

অন্য একটি গ্রেফতারকৃত, ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ রিয়াজ, পরিকল্পনা পর্যায়ে সহায়তা করার অভিযোগে আটক হয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আরও একজন সন্দেহভাজন, যাকে রাহিম বলা হয়, এখনও পলায়ন করেছে এবং তার অবস্থান এখনো অজানা।

অপারেশনের সময় পুলিশ গুলিবিদ্ধদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং ছয় হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করেছে। তবে গুলি চালানোর জন্য ব্যবহৃত অস্ত্র এখনো পাওয়া যায়নি। গুলিবিদ্ধদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের ভূমিকা স্বীকার করেছে, তবে অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি।

মুসাব্বিরের পটভূমি বিবেচনা করে তদন্তকারীরা রাজনৈতিক প্রেরণার সম্ভাবনাও বিশ্লেষণ করছেন। তবে বর্তমান প্রমাণ দেখায়, তার ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে বিরোধই প্রধান কারণ হতে পারে। এছাড়া, বিদেশ থেকে এক লক্ষ পনেরো লাখ টাকা পাঠানো হয়ে থাকতে পারে, যা হত্যাকাণ্ডের অর্থায়নে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সূত্র পাওয়া গেছে।

মুসাব্বির সম্প্রতি এক মানবশৃঙ্খল আয়োজন করেন, যেখানে তিনি ঘাঁটিয়ে দিচ্ছিলেন যে চাঁদা আদায়কারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঐ শৃঙ্খলে সংঘর্ষের পর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়ে নেওয়া সত্ত্বেও গুলি হানা হয়।

হত্যার সময় গলিতে উপস্থিত ছিলেন মুসাব্বিরের সঙ্গে তেজগাঁও থানা ভ্যান কর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান বেপারী মাসুদ। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে মাসুদও আহত হন, তবে তার অবস্থার বিস্তারিত জানানো হয়নি। গুলি চালিয়ে দুজন গুলিবিদ্ধের মধ্যে মুসাব্বিরের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।

ডিটেকটিভ শাখা এখনো গুলি চালানোর জন্য ব্যবহৃত বন্দুকের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং অপরাধী রাহিমের গ্রেফতার নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালু রয়েছে। এছাড়া, বিদেশি অর্থের সূত্র অনুসন্ধান এবং ব্যবসায়িক বিরোধের প্রকৃত কারণ উন্মোচনের জন্য তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

অধিক তথ্য পাওয়া গেলে এবং নতুন কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের জানাবে। বর্তমানে মামলাটি আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যাতে অপরাধীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments