22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিউচ্চ আদালত মুসলিম পরিবার আইন ১৯৬১‑এর ধারা ৬‑এর বৈধতা নিশ্চিত করে

উচ্চ আদালত মুসলিম পরিবার আইন ১৯৬১‑এর ধারা ৬‑এর বৈধতা নিশ্চিত করে

ঢাকায় উচ্চ আদালত ২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণ রায়ে মুসলিম পরিবার আইন ১৯৬১‑এর ধারা ৬‑এর অধীনে বহুবিবাহের অনুমতির জন্য আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজনের বিধানকে সংবিধানিক ও বৈধ ঘোষণা করেছে।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সায়েদ জাহেদ মন্সুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায়ে উল্লেখ করেছে যে, এই অনুমোদন প্রক্রিয়া কোনো বৈষম্য বা স্বেচ্ছাচারিতা প্রকাশ করে না এবং উভয় স্বামী‑স্ত্রীর অধিকারকে হ্রাস করে না।

বেঞ্চের মতে, আরবিট্রেশন কাউন্সিলকে অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা আরোপ করা হয় না; বরং এটি আইনগত প্রক্রিয়ার একটি স্বচ্ছ অংশ।

এই রায়ের পূর্বে, গত বছর ৩১ আগস্ট একই বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসানের দায়ের করা রিট পিটিশন প্রত্যাখ্যান করে, যেখানে ধারা ৬‑এর বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছিল।

বিচারকরা রায়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে, ধারা ৬‑এর প্রয়োগে কোনো নারী নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয় না এবং বহুবিবাহের গ্যারান্টি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সংবিধানিক লঙ্ঘন নেই।

রিট পিটিশনের দায়েরকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান উল্লেখ করেছেন যে, এই ধারায় স্বামীর জন্য স্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই; বরং অনুমোদন প্রক্রিয়া আরবিট্রেশন কাউন্সিলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

ধারা ৬‑এর অনুসারে, যদি কোনো স্বামী বিদ্যমান বিবাহের সময় আরেকটি বিবাহ করতে চান, তবে তাকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্ব অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা এবং দৌলত সম্পূর্ণ পরিশোধের দায়িত্ব আরোপিত হয়।

এই রায়ের ফলে ধর্মীয় ও পারিবারিক আইনের সংবিধানিকতা নিয়ে চলমান বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে নারী অধিকার সংরক্ষণে সক্রিয় রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো রায়ের প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবে।

আইনি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমোদন প্রক্রিয়া যদি স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়, তবে এটি বহুবিবাহের দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারে এবং অনধিকারিক বিবাহের সংখ্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

অন্যদিকে, কিছু সমালোচক দাবি করছেন যে, এই বিধান এখনও নারীর স্বায়ত্তশাসনকে সীমিত করতে পারে, কারণ স্বামীকে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হয়, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের অধীন হতে পারে।

উচ্চ আদালতের রায়ের পর, সংশ্লিষ্ট আইনসভার সদস্যরা ধারা ৬‑এর কার্যকরী প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রস্তুত করার কথা জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনি বিরোধ এড়ানো যায়।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ধর্মীয় বিবাহের নিয়মাবলীর সংবিধানিকতা ও তার সামাজিক প্রভাব নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন দিক উন্মোচিত হবে, এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি নারীর অধিকার ও পারিবারিক ন্যায়বিচার নিয়ে গঠিত নীতিমালার পুনর্মূল্যায়নের সূচনা হতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments